Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

দুই দশকের অপেক্ষার অবসান নয়া জমানার সূচনা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন তারেক রহমান, সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কঠিন পরীক্ষা

0 567,158

ঢাকা, নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হল মঙ্গলবার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করে দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে।
বিকাল সোয়া ৪টায় রাজধানী ঢাকা-র জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অনুষ্ঠান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এর আগে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হলেও এবারই প্রথম সংসদ ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ আয়োজন করা হল।
নতুন মন্ত্রিসভায় চমক ও নতুন মুখের ভিড়
প্রধানমন্ত্রীর শপথের পরপরই ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। তাঁদের শপথও পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর প্রায় সকলেই প্রথমবার দায়িত্ব পেলেন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই সাংসদ—নিতাই রায়চৌধুরী ও দীপেন দেওয়ান—পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভায়, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের বার্তা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরউদ্দিন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের শাসনভার নতুন সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক মহলের উপস্থিতি
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও যথেষ্ট গুরুত্ব পায়। উপস্থিত ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের বিদেশমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা।
তাঁদের উপস্থিতি নতুন সরকারের প্রতি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আগ্রহের ইঙ্গিত বহন করছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
অর্থনীতি—সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, তা হল অর্থনৈতিক অস্থিরতা। গত কয়েক বছরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলাহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।
নতুন সরকার ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে—মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো হবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শাসন সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের রূপরেখা
বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হল শাসনব্যবস্থার সংস্কার। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথা ভাবছে সরকার।
বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, বিগত আমলের রাজনৈতিক মামলাগুলির পুনর্বিবেচনা এবং মানবাধিকার রক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।
নির্বাচনব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
নিরপেক্ষ ও স্থায়ী নির্বাচনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামোর একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজার ইঙ্গিত মিলেছে।
‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতিকে সামনে রেখে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করার কথাও বলা হয়েছে।
বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ও আইটি খাতে তরুণদের দক্ষ করে তোলার বিশেষ প্রকল্প নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের ‘ভিশন ২০৩০’-এর ছাপ নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণে স্পষ্ট হতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপির সামনে এখন প্রত্যাশা ও বাস্তবতার কঠিন সমীকরণ। রাজনৈতিক পালাবদলের উত্তেজনার আবহে দেশের মানুষ তাকিয়ে—নতুন সরকার প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের পথে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এগোতে পারে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper