AB Live News
ন্যূনতম ব্যালেন্সের নামে পাঁচ বছরে ৮,৬২১ কোটি আদায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের জরিমানায় চাপে আমজনতা
নয়াদিল্লি,(নি:প্র:)- মুদ্রাস্ফীতির চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তার মধ্যেই ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় না রাখার অজুহাতে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে গত পাঁচ বছরে ৮,৬২১.১২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই বিপুল অঙ্ক সংগ্রহের তথ্য উঠে এসেছে লোকসভা-র পিটিশন কমিটির সামনে পেশ করা নথিতে।
সংসদীয় কমিটির মতে, আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে এই ধরনের জরিমানা নীতি সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং তা ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’। কমিটি অবিলম্বে ন্যূনতম ব্যালেন্স সংক্রান্ত জরিমানার নিয়ম বাতিলের আর্জি জানিয়েছে।
কোন রাজ্য থেকে কত আদায়?
পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে জরিমানার অঙ্কের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ—সেখানে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় হয়েছে ১,২৩৩.৯৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ু, যেখানে জরিমানার অঙ্ক ১,০২১.৩৮ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে মহারাষ্ট্র, সংগ্রহ ১,০৮৮.১৮ কোটি টাকা।
এছাড়া কর্ণাটক থেকে ৫২৯.২০ কোটি এবং বিহার থেকে ৪৬৪.৫৩ কোটি টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে।
ব্যাঙ্কিং মহলের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ ও উচ্চ আর্থিক লেনদেনসমৃদ্ধ রাজ্যগুলিতে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেশি হওয়ায় জরিমানার অঙ্কও বেশি। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে এই ধরনের জরিমানা কি আরও বড় চাপ তৈরি করছে না?
বছরভিত্তিক বাড়বাড়ন্ত
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংগৃহীত জরিমানা ছিল ১,১৪৮.৭১ কোটি টাকা। পরবর্তী বছরগুলিতে তা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩-২৪ সালে ২,২২৫.১০ কোটিতে পৌঁছয়। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অঙ্কটি সামান্য কমে ২,০৪৫.৭৪ কোটি টাকায় নেমেছে, তবুও তামিলনাড়ুসহ ছয়টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে উল্টে জরিমানার পরিমাণ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চ মাসে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সেভিংস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখার জরিমানা প্রত্যাহার করেছিল। তবুও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংগৃহীত অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চই থেকে গিয়েছে।
ক্ষুদ্র গ্রাহকদের উপর চাপ
সংসদীয় প্যানেলের পর্যবেক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বারবার জরিমানা আরোপ তাঁদের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে। বিশেষত গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে অনিয়মিত আয় থাকা সত্ত্বেও ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
কমিটির বক্তব্য, ব্যাঙ্কগুলির নৈতিক দায়িত্ব হওয়া উচিত গ্রাহকদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা, তাঁদের উপর শাস্তিমূলক আর্থিক বোঝা চাপানো নয়।
নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে সাধারণ মানুষ, সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির এই ‘দণ্ডনীতি’ জনস্বার্থবিরোধী বলেই মনে করছে পিটিশন কমিটি।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ‘জিরো ব্যালেন্স’ বা নমনীয় ব্যালেন্স ব্যবস্থার প্রসার জরুরি। অন্যথায়, নিম্নআয়ের গ্রাহকরা আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে সরে যেতে পারেন—যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থার পক্ষেও ক্ষতিকর।
এখন দেখার, সংসদীয় সুপারিশের পর কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি এই নীতিতে পরিবর্তন আনে কি না। তবে আপাতত পরিসংখ্যানই বলছে—ন্যূনতম ব্যালেন্সের নামে গত পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে উধাও হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

