AB Live News
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের রেলে অগ্নিকাণ্ড
রবিবার হাইপ্রোফাইল রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটল। এবার ঘটনাস্থল প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের সাসারাম রেলওয়ে স্টেশন। সোমবার সেখানে একটি পটনাগামী যাত্রীবাহী ট্রেনের কামরায় আচমকাই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। পর পর দু’দিন দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে ট্রেনের কোচে এই ধরণের অগ্নিকাণ্ডের জেরে স্বভাবতই রেলের যাত্রী নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপর এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গিয়েছে। সাসারাম স্টেশনের এই অগ্নিকাণ্ডের গা শিউরে ওঠা ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের একটি যাত্রীবাহী কামরা থেকে গলগল করে ঘন কালো ধোঁয়া বার হচ্ছে এবং ট্রেনের ভেতর থেকে আগুনের শিখা প্ল্যাটফর্মের দিকে আছড়ে পড়ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আতঙ্কিত রেলযাত্রী ও কর্তব্যরত রেলকর্মীরা বালতি বালতি জল এবং অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার নিয়ে মরিয়া হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
রেলওয়ে পুলিশ এবং স্টেশন সূত্রের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে যে, সম্ভবত অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিটের কারণেই ট্রেনের ওই কামরাটিতে আচমকা আগুন লেগে যায়। জানা গিয়েছে, ০৩৬১৬ সাসারাম-পাটনা ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি তখন সাসারাম রেলওয়ে স্টেশনের অত্যন্ত ব্যস্ত ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গম্ভীরভাবে দাঁড়িয়েছিল। ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে পাটনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ঠিক কিছু ক্ষণ আগেই আচমকা মাঝের একটি সাধারণ বগিতে বা কোচে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। চোখের পলকে ট্রেনের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরোতে দেখে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত এবং ট্রেনের ভেতরে থাকা শত শত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। নিত্যযাত্রীরা প্রাণভয়ে যে যেদিকে পারেন ছুটোছুটি শুরু করে দেন। তবে রেলের তৎপরতায় সময়মতো বগিটি খালি করে দেওয়ায় এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রী বা রেলকর্মীর হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, যা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মাঝে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই অর্থাৎ রবিবার তিরুঅনন্তপুরম–হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বি-১ কামরায় এক ভয়াবহ ও মারাত্মক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। সেই আগুনে ট্রেনের দুটি কামরা কার্যত পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। জাতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পেশ করা বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য রেলের কোটা বিভাগের অন্তর্গত লুনি রিছা এবং বিক্রমগড় আলোট স্টেশনের মাঝামাঝি একটি নির্জন অঞ্চলে রাজধানী এক্সপ্রেসের চাকার ব্রেক বাইন্ডিং বা অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাঝপথে চলন্ত ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি নজরে আসার পর পরই আপৎকালীন ব্রেক কষে ট্রেনটি থামানো হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কামরায় থাকা সমস্ত যাত্রীকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। ফলে দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম এই ট্রেনে আগুন লাগলেও কোনও যাত্রী বা রেলকর্মীদের মধ্যে কেউ জখম হননি এবং কোনও বড়সড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রবিবার ওই রাজধানী এক্সপ্রেসের বি-১ কামরার এসএলআর প্রান্তের নীচের অংশে প্রথম আগুনের ফুলকি ও ধোঁয়া লক্ষ্য করেছিলেন লাইনের ধারে থাকা রেলকর্মীরা। অত্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চালক ও গার্ডের তৎপরতায় সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের ওপর দিয়ে যাওয়া ওভারহেডের উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাতাসের গতিতে আগুন যাতে ট্রেনের অন্য কোনও কামরায় বা পেছনের বগিতে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বি-১ কামরাটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল ট্রেন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেওয়া হয়। রেলের রেকর্ড অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই বি-১ কোচে তখন মোট ৬৮ জন দূরপাল্লার যাত্রী সওয়ার ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের উদ্ধারকারী দল, দমকলের ইঞ্জিন এবং উচ্চপদস্থ ডিভিশনাল আধিকারিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। এই অনভিপ্রেত ঘটনার জেরে ডাউন ১২৯৫৫ নম্বর ট্রেনটিকে সাময়িকভাবে মহিদপুর রোড স্টেশনে বেশ কিছু ক্ষণ থামিয়ে রাখতে হয়, যার ফলে ওই রুটের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে দেশের রেল পরিষেবাতে এই পর পর দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেল বোর্ডের অন্দরেও তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে এবং ট্রেনের কামরাগুলির বৈদ্যুতিক ফিটিং ও রক্ষণাবেক্ষণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

