Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

দেরাদুনে আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের পর্দাফাঁস, এনসিবির অভিযানে ধৃত সিরিয়ার নাগরিক

0 81,289,087

 উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি শহর দেরাদুনে এক আন্তর্জাতিক ‘জেহাদি মাদকচক্রে’র হদিস মেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশ জুড়ে। কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (এনসিবি) এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে ‘অপারেশন রাজেপিল’ চালিয়ে এক বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করেছে, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এই বিশেষ অভিযানে মোট ২২৭.২ কেজি ওজনের ক্যাপ্ট্যাগন ট্যাবলেট এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাদক পাউডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অপরাধে এখনও পর্যন্ত দুই প্রধান অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের মধ্যে একজন খোদ সিরিয়ার নাগরিক হওয়ায় এই চক্রের শিকড় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন কিংবা বিদেশি মাদক মাফিয়াদের সঙ্গে কতটা গভীরে যুক্ত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। শান্ত পাহাড়ি উপত্যকাকে কেন্দ্র করে এমন একটি ভয়ঙ্কর মাদকের কারখানা গড়ে ওঠার ঘটনায় রীতিমতো হতবাক প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক মহল।

তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সিরিয়ান নাগরিককে এনসিবির দিল্লি জোনাল ইউনিটের সদর দফতরে নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর সেই জেরার মুখেই বেরিয়ে আসে একের পর এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত বিদেশি নাগরিক স্বীকার করেছেন যে, এর আগে বিগত ২০label৫ সালের নভেম্বর মাসে দেশের রাজধানী দিল্লির নেব সরাই এলাকা থেকে যে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ক্যাপ্ট্যাগন ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছিল, তার উৎসও ছিল এই উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের গোপন কারখানাটি। দিল্লির সেই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই মাদকের মূল উৎপাদকদের সন্ধান চালাচ্ছিলেন। জানা গিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক মানের নিষিদ্ধ মাদক এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পাউডার তৈরিতে ধৃত ব্যক্তির পাশাপাশি আরও একজন সিরিয়ান নাগরিক সক্রিয়ভাবে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সাহায্য করেছিলেন। দ্বিতীয় সেই বিদেশি নাগরিকের খোঁজে এখন দেশের সমস্ত বিমানবন্দর এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, গত ১৬ মে গভীর রাতে দেরাদুনের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ‘মেসার্স গ্রিন হার্বাল’ নামের একটি ভেষজ ওষুধের কারখানায় অতর্কিতে হানা দেয় এনসিবি ও পুলিশের একটি যৌথ বিশেষ দল। উপরমহলের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই কারখানাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়, যাতে কোনও অপরাধী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালাতে না পারে। এরপর সেখানে তল্লাশি অভিযান চালাতেই গোয়েন্দাদের চোখ কপালে ওঠে। ভেষজ ওষুধ তৈরির আড়ালে ওই কারখানার ভেতরে রমরমিয়ে চলছিল অবৈধ মাদক উৎপাদনের এক বিশাল সাম্রাজ্য। সেখান থেকে মাদক তৈরির জন্য ব্যবহৃত একাধিক অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্যাবলেট তৈরি করার ডাই মেশিন, রাসায়নিক গ্র্যানুলেশন যন্ত্র, ক্যাপসুল ভর্তি করার স্বয়ংক্রিয় পরিকাঠামো, কোটিং, সিলিং এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্লিস্টার প্যাকেজিং মেশিন। অর্থাৎ কাঁচামাল থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রির উপযোগী চূড়ান্ত প্যাকেট তৈরি পর্যন্ত সমস্ত কাজই চলত এই এক ছাদের নিচে। তল্লাশি অভিযানে কারখানা চত্বর থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল, মারাত্মক সব রাসায়নিক পদার্থ, হাজার হাজার খালি ক্যাপসুল খোল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং সামগ্রীও উদ্ধার করে সিল করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এই চক্রের তদন্তে নেমে আরও একটি বড় সাফল্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। কারখানার মালিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, মেসার্স গ্রিন হার্বালের মালিক সম্পূর্ণ জেনেবুঝেই এবং মোটা অঙ্কের মুনাফার লোভে এই অবৈধ মাদক তৈরির জন্য নিজের ওষুধ কারখানাটি ভাড়া দিয়েছিলেন। এই নিষিদ্ধ কাজের জন্য ব্যবহারের পারিশ্রমিক হিসেবে অপরাধীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ টাকা করে নগদ আদায় করতেন ওই মালিক। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ধৃত কারখানার মালিকের অতীত রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। তিনি এর আগেও অত্যন্ত ক্ষতিকর নারকোটিক ড্রাগ ‘ট্রামাডল’ এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ ট্যাবলেট পাচার ও বেআইনি সরবরাহ সংক্রান্ত দু’টি পৃথক বড় মাদক মামলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। যার মধ্যে একটির তদন্ত করেছিল দেরাদুন পুলিশ এবং অন্যটির তদন্ত চালাচ্ছিল এনসিবি-র দিল্লি জোনাল ইউনিট। পূর্বের অপরাধের সূত্র ধরেই এই আন্তর্জাতিক চক্রে তাঁর ভূমিকা নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ ওই অভিযুক্ত কারখানার মালিককেও গ্রেপ্তার করেছে। এই ‘জেহাদি মাদকচক্র’ ভারতের যুব সমাজকে ধ্বংস করার জন্য নাকি ভিন দেশের কোনও বড় ষড়যন্ত্রের অংশ, তা জানতে ধৃত সিরিয়ান নাগরিক ও কারখানার মালিককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এনসিবির শীর্ষ আধিকারিকরা।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper