Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত

0 60,921,766

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে সুবিধা পেতে কী কী শর্ত? কী কী সুবিধা মেলে?

আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে কী কী আছে?

আয়ুষ্মান ভারত কারা পাবেন? কারা পাবেন না?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে রাজ্যে অবশেষে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। সোমবার, ১১ মে নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের সবুজ সংকেত প্রদান করেছেন। কেন্দ্রের এই ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (PM-JAY) নিয়ে এতদিন রাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপড়েন চললেও, নতুন সরকারের সদিচ্ছায় এখন থেকে বাংলার কয়েক কোটি দরিদ্র মানুষ সরাসরি ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজের আওতায় আসতে চলেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (NHA)-র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মেগা প্রকল্প কেবল চিকিৎসা নয়, বরং একটি পরিবারের আপৎকালীন সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। সরকারি ও নথিবদ্ধ বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে মিলবে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের সঠিক রূপায়ণে ইতিমধ্যে জেলা স্তরের আধিকারিকদের নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই প্রকল্পের শর্তাবলি ও সুযোগ-সুবিধার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কী কী সুবিধা মিলবে?

এই প্রকল্পের অধীনে তালিকাভুক্ত যে কোনও হাসপাতালে ভর্তি হলে পরিবার পিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ পকেট থেকে এক টাকাও খরচ করতে হবে না।

চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয়ভার এই বিমার অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ডাক্তারের পরামর্শ ফি, ওষুধের খরচ, বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, আইসিইউ-র খরচ এমনকি ইমপ্ল্যান্টসের খরচও কভার করা হবে।

হাসপাতালে ভর্তির আগের ৩ দিন এবং হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর পরবর্তী ১৫ দিনের যাবতীয় ওষুধের খরচ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় এই প্রকল্পের মাধ্যমেই মেটানো সম্ভব।

চিকিৎসা চলাকালীন যদি নতুন কোনও শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় এবং তার জন্য অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ে, তবে সেই বাড়তি খরচও এই বিমার মাধ্যমেই পাওয়া যাবে।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই আগে থেকে থাকা যে কোনও অসুখের (Pre-Existing Disease) খরচ কভার করা হয়। কোনও ‘ওয়েটিং পিরিয়ড’ বা অপেক্ষার সময়কাল নেই।

পরিবারের সদস্য সংখ্যা বা বয়সের ওপর কোনও ঊর্ধ্বসীমা ধার্য করা হয়নি। ফলে একটি বড় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারবেন।

সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ধরনের জটিল চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার এই প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুবিধা পাওয়ার জন্য গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের শর্তাবলি:

যাঁদের থাকার জন্য কেবল একটি মাত্র ঘর রয়েছে এবং সেটিও কাঁচা দেওয়াল ও কাঁচা ছাউনি দিয়ে তৈরি।

পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সের মধ্যে কোনও উপার্জনক্ষম বা সক্ষম সদস্য না থাকলে এই সুবিধা মিলবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও পরিবারে কেবল বৃদ্ধ দাদু এবং নাবালক নাতি থাকে, তবে তাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্য।

পরিবারের প্রধান বা পরিবারের মধ্যে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সের কোনও পুরুষ সদস্য না থাকলে সেই পরিবার সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

যদি পরিবারে কেবল বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গ সদস্য থাকেন এবং সেই পরিবারে দেখাশোনা করার মতো কোনও সুস্থ-সবল প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য না থাকেন।

তফসিলি জাতি (SC) বা তফসিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত পরিবারগুলি এই প্রকল্পের অগ্রাধিকার পাবে।

ভূমিহীন পরিবার যাদের উপার্জনের প্রধান উৎস হল কায়িক শ্রম বা দিনমজুরি, তাঁরাও এই স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

এ ছাড়া অত্যন্ত দরিদ্র বা নিঃস্ব নাগরিক, জঞ্জাল ও আবর্জনা অপসারণের কাজে যুক্ত সাফাই কর্মী, আদিম জনজাতি গোষ্ঠীভুক্ত মানুষ এবং আইনত মুক্তি পাওয়া চুক্তিভুক্ত শ্রমিকরা (Bonded Labour) সরাসরি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।

শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য শর্তাবলি:

শহরের ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের ১১টি নির্দিষ্ট পেশার যে কোনও একটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছেন আবর্জনা সংগ্রাহক বা র‍্যাগপিকার্স, ভিক্ষুক এবং গৃহপরিচারক হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিরা।

রাস্তার হকার, মুচি, রাস্তার ধারে কাজ করা শ্রমিক, প্লাম্বার, রাজমিস্ত্রি, নির্মাণশ্রমিক এবং মালবাহী কুলি বা মুটে-মজুররা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

নিরাপত্তা কর্মী বা সিকিউরিটি গার্ড, মালি, ঝাড়ুদার ও সাফাই কর্মীদের পরিবারও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

হস্তশিল্প কর্মী, দর্জি, মৃৎশিল্পী বা ছোট কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগররা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

পরিবহন কর্মী যেমন— চালক, কন্ডাকটর, হেল্পার এবং রিকশাচালকরা এই প্রকল্পের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

দোকানের কর্মচারী, ছোট সংস্থার পিয়ন, রেস্তোরাঁ বা হোটেলের ওয়েটার এবং সমগোত্রীয় পেশায় যুক্ত নিচুতলার কর্মীরা এই বিমা পাবেন।

ইলেকট্রিশিয়ান, মেকানিক বা ছোটখাটো মেরামতির কাজ করা মিস্ত্রি এবং ধোপা ও চৌকিদার পেশার মানুষজনও এই প্রকল্পের অধীনে আসতে পারবেন।

আবেদন করলেও এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ যাবেন যাঁরা:

যাঁদের বাড়িতে দুই চাকা, তিন চাকা বা চার চাকা গাড়ি রয়েছে অথবা যান্ত্রিক মাছ ধরার নৌকো রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

যাঁদের কৃষিকাজের জন্য নিজস্ব ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের মতো যন্ত্রচালিত কৃষি সরঞ্জাম রয়েছে, তাঁরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

যাঁদের কিসান ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি, তাঁরা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন।

পরিবারের কোনও সদস্য যদি সরকারি চাকরিজীবী হন, তবে সেই পরিবার আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবে না।

যাঁরা সরকার নিয়ন্ত্রিত কোনও অ-কৃষি সংস্থায় কাজ করেন, তাঁরাও বিমার তালিকা থেকে বাদ যাবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক রোজগার ১০ হাজার টাকার বেশি, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।

যাঁদের বাড়িতে রেফ্রিজারেটর বা ল্যান্ডলাইন ফোনের সংযোগ রয়েছে, তাঁরাও এই বিমার আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।

যাঁরা অন্তত তিনটি পাকা দেওয়াল ও পাকা ছাদ বিশিষ্ট পাকাপোক্ত বাড়িতে বসবাস করেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

৫ একর বা তার বেশি কৃষিজমি রয়েছে এমন সচ্ছল কৃষিজীবী পরিবারগুলিকে এই স্বাস্থ্য বিমার আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper