AB Live News
দালাল স্ট্রিটে রক্তস্নান, সেনসেক্সের পতন
সপ্তাহের শুরু থেকেই অব্যাহত পতন, মঙ্গলবার সকালে কার্যত ধস নামল ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সোমবারের পর মঙ্গলবারেও দালাল স্ট্রিটে হাহাকার পড়ে গিয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এদিন বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি নীচে নেমে যায়। একই সমান্তরালে পতন দেখা গিয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিফটি ৫০ সূচকেও। নিফটি এদিন প্রায় ২০০ পয়েন্টের বেশি খুইয়েছে। এই জোড়া ধাক্কায় বিনিয়োগকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা নিমিষেই বাজার থেকে সাফ হয়ে গেল। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক নিফটি সূচকে প্রায় ৫০০ পয়েন্টের পতন সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ কিছু নেতিবাচক পরিস্থিতি মিলেমিশে ভারতীয় শেয়ার বাজারে এই রক্তক্ষরণ তৈরি করেছে।
বাজারের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির নেপথ্যে একাধিক কারণ উঠে আসছে। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ত্রাসের আবহ তৈরি হয়েছে। যদিও মাঝে একবার সংঘর্ষ বিরতির কথা শোনা গিয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী শান্তি ফেরার কোনও নিশ্চয়তা না মেলায় লগ্নিকারীরা ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগামছাড়াভাবে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতের মতো আমদানি নির্ভর দেশের ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার মূল্যেও ক্রমাগত অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম সর্বকালীন তলানিতে ঠেকেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে। এফপিআই বা ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টারেরা ভারত থেকে লাগাতার পুঁজি তুলে নিচ্ছেন এবং টাকা বিক্রি করে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার সকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এনএসই-র অধিকাংশ সেক্টরেই লোকসানের বহর বাড়ছে। বিশেষ করে আইটি সেক্টর এদিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিসিএস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক এবং টেক মাহিন্দ্রার মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলির শেয়ার দর হুহু করে পড়ছে। একই হাল আদানি পাওয়ার এবং এলটিএম-এর ক্ষেত্রেও। নিফটি নেক্সট ৫০ এবং নিফটি মিডক্যাপ ১০০-এর মতো সূচকগুলিও বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। তবে এই চরম মন্দার বাজারেও মেটাল, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারে কিছুটা আশার আলো দেখা গিয়েছে। ওএনজিসি, হিন্দুস্তান জিঙ্ক, বেদান্ত, হিন্ডালকো, টাটা স্টিল এবং পিডিলাইট ইন্ডাস্ট্রিজ়ের শেয়ারে ভালো রিটার্ন লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যতক্ষণ না বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা কাটছে এবং তেলের দামে স্থিতিশীলতা আসছে, ততক্ষণ ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা রোখা কঠিন হবে। সপ্তাহের দ্বিতীয় ট্রেডিং ডে-তেই লগ্নিকারীদের এই বিপুল ক্ষতির পর এখন সকলে তাকিয়ে আছেন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দিনশেষে বাজার কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

