Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

মেয়রকে ‘বাংলাদেশি’ তোপ নিতিন নবীনের

0 568,865,510

 ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল বঙ্গ রাজনীতি, কিন্তু সোমবার সেই পারদ কার্যত বিস্ফোরণের আকার নিল। ভোটমুখী বাংলায় প্রচারের ময়দান থেকে কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সোমবারের এই একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে খোদ মেয়রের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি যে তুরুপের তাসটি খেলল, তা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে হওয়া অন্যতম বড় আক্রমণ। সোমবার সকালে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মেজাজ হারান বিজেপি নেতা নিতিন নবীন। তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের তোষণ এবং সুরক্ষা দেওয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। সরাসরি ফিরহাদ হাকিমের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অনেক শীর্ষ নেতা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খোদ মেয়র নিজেই সেই তালিকায় রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি আক্রমণ করে বিজেপি আসলে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও তীব্র করতে চাইছে।

নিতিন নবীন এদিন তাঁর ভাষণে কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার উৎসই হলো বেআইনি অনুপ্রবেশকারী। মেয়রের নাম টেনে তিনি কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যের প্রশাসনিক উচ্চপদে এমন একজন বসে আছেন যাঁর পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপির এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, বাংলায় দীর্ঘকাল ধরে চলা ‘অনুপ্রবেশ’ সমস্যা এবং পরিচয়পত্রের কারচুপি বন্ধ করতেই তাঁরা এই সত্য সামনে আনছেন। দলের কর্মীদের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষদের ভোটার তালিকায় তুলে রাজনৈতিক আখের গোছানোই ঘাসফুল শিবিরের কৌশল। আর সেই প্রক্রিয়ার মাস্টারমাইন্ড হিসেবেই এদিন মেয়রের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এই খবর জানাজানি হতেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক দীর্ঘ বিবৃতি না এলেও, দলের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এই মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভোটের আগে ধর্মীয় মেরুকরণের সস্তা কৌশল’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মেয়রের অনুগামীদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি এখন কুরুচিকর ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমেছে।

উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে মেয়রের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, এই ধরণের অপমানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি পথে হাঁটার কথা ভাবছেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, ফিরহাদ হাকিম বহু দশকের জনপ্রতিনিধি এবং তাঁর জন্ম ও পরিচয় নিয়ে এহেন জঘন্য মিথ্যাচার আসলে গোটা বাংলার মানুষকে অপমান করার শামিল। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির কিন্তু পিছু হটতে নারাজ। সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে রাজ্যের অন্যান্য বিজেপি নেতারাও নিতিন নবীনের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে শুরু করেছেন যে, তৃণমূল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জাতীয় সুরক্ষা বিঘ্নিত করছে। নির্বাচনের ঠিক আগে যখন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি দুর্নীতি ও উন্নয়নের ইস্যুগুলো সামনে আসছিল, ঠিক তখনই ফিরহাদ হাকিমকে ‘বাংলাদেশি’ দেগে দিয়ে নিতিন নবীন রাজ্য রাজনীতির অভিমুখ কার্যত ঘুরিয়ে দিলেন। এখন দেখার, এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না। তবে ২০ এপ্রিলের এই উত্তপ্ত ভাষণ যে আগামী দফার নির্বাচনে ভোটারদের মনে বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের মেঠো কর্মীরা এখন এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রান্তিক মানুষজনের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেয়রের নাগরিকত্ব বিতর্ক এখন কেবল পোর্ট কেন্দ্র বা কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ২০২৬-এর মহা-সংগ্রামের কেন্দ্রীয় থিম হিসেবে উঠে এসেছে। রাজ্যবাসী এখন অপেক্ষা করছেন স্বয়ং মেয়রের সরাসরি প্রতিক্রিয়ার জন্য, যা সম্ভবত আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসবে। সব মিলিয়ে, তিলোত্তমার রাজপথ থেকে জেলাগুলোর জনসভা—বিজেপির এই ‘বাংলাদেশি’ কার্ডে সোমবারের উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper