Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

গুন্ডারা হয় ঘরে ঢুকবে নয় উপরে যাবে: রাজনাথ

0 398,745,280

 প্রথম দফার মহাযুদ্ধের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত অগ্নিবর্ষণ করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সোমবার শহর কলকাতার বুকেই এক মেগা নির্বাচনী জনসভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে রাজনাথ হুঙ্কার দেন, “তৃণমূলের জমানায় বাংলায় যে অরাজকতা চলছে, তার আয়ু আর খুব বেশিদিন নেই। আমি স্পষ্ট বলে যাচ্ছি, সব গুন্ডা হয় এবার ঘরের ভিতর লুকিয়ে পড়বে, নাহলে সরাসরি উপরে চলে যাবে।” মন্ত্রীর এই ঝাঁঝালো মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে।

এদিনের জনসভায় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর নিশানায় ছিল মূলত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। ভিড়ে ঠাসা ময়দানের দিকে তাকিয়ে রাজনাথ বলেন, “বাংলা এক সময় সংস্কৃতি ও বিপ্লবের পীঠস্থান ছিল। কিন্তু বর্তমান শাসকদল একে মাফিয়া আর গুন্ডাদের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ছেড়েছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। কিন্তু বিজেপি আর চুপ করে বসে থাকবে না। এই ভোট শুধু সরকার গড়ার নয়, এই ভোট বাংলাকে গুন্ডারাজ থেকে মুক্তি দেওয়ার লড়াই।” রাজনাথের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীরা যখন এই আক্রমণকে ‘গণতন্ত্রের জন্য শুভ’ বলে মনে করছেন, তখন শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি এখন প্রচ্ছন্ন হুমকির রাজনীতি করছে।
রাজনাথ সিংহ তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন, রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে সন্ত্রাসের খবর আসছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ—সবক্ষেত্রেই তৃণমূলের ক্যাডাররা সক্রিয়। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নির্বাচনের পর বাংলার মাটিতে কোনো অন্যায়কারীকে রেয়াত করা হবে না। তাঁর কথায়, “প্রশাসনকে যারা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে নিয়েছেন, তাদের দিন ফুরিয়ে আসছে। হয় শোধরান, নয়তো পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন।” প্রথম দফার ভোটের ঠিক দু’দিন আগে রাজনাথের এই আগ্রাসী ভঙ্গি নিছকই রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং ভোটারদের মনে সাহস জোগানোর এক পরিকল্পিত রণকৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মঞ্চ থেকে রাজনাথ সাফ জানান যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশন রাজ্যের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কোনোভাবেই বুথ দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। তৃণমূল জমানায় যে ‘ভয় ভীতি’র সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার মূলে কুঠারাঘাত করতেই এই ‘উপরে পাঠিয়ে দেওয়া’র বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। দিনের শেষে রাজনাথের এই ‘হুঙ্কার’ কেবল নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং আগামী দিনের কড়া প্রশাসনিক অবস্থানের একটি নীল নকশা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। প্রথম দফার ভোটের আগে এই হাই-ভোল্টেজ আক্রমণ তৃণমূলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ কতটা বাড়াবে, এখন সেটাই দেখার।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper