AB Live News
ইপিএলে শিরোপা দৌড়ে ধাক্কা আর্সেনালের, প্রত্যাবর্তন ম্যান সিটির
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে আবারও নাটকীয় মোড় এনে দিল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। নিজেদের ঘরের মাঠে শক্তিশালী আর্সেনালকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে। ফলে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে এনে শিরোপা লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।
রবিবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় সিটি। আক্রমণাত্মক ফুটবল ও বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল তারা। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই ফরাসি তরুণ রায়ান চেরকি দুর্দান্ত একক নৈপুণ্যে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে আর্সেনালের জালে বল জড়ান তিনি। গোলের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের দিকে টেনে নেয় সিটি। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি গুয়ার্দিওলার শিষ্যরা। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে আর্সেনাল ম্যাচে ফিরে আসে। সিটির গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার একটি মারাত্মক ভুলে সুযোগ পেয়ে যান কাই হাভার্টজ। ব্যাক-পাস থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দেরি করে ফেলেন দোনারুম্ম। ফলে দ্রুত চাপ সৃষ্টি করেন হাভার্টজ। গোলরক্ষকের ক্লিয়ারেন্স তাঁর গায়েই লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। অপ্রত্যাশিতভাবে ১৮ মিনিটেই সমতায় ফেরে মিকেল আর্তেতার দল। প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। আর্সেনালের হয়ে মার্টিন ওডেগার্ডে এবং এবেরেচি এজে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, সিটি ধৈর্য ধরে আক্রমণ চালিয়ে যায় এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে। তরুণ নিকো ও’রেইলির ক্রস থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। গোলের পর ইতিহাদ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে সমর্থকরা। ম্যাচের শেষদিকে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। হালান্ড ও আর্সেনালের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। যার ফলে গ্যাব্রিয়েল হলুদ কার্ড দেখেন। এরপরও আর্সেনাল শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু হাভার্টজের একটি সহজ হেড বাইরে চলে গেলে সেই আশা শেষ হয়ে যায়। পরিসংখ্যানেও সিটির আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে তারা মোট ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। এদিকে আর্সেনাল নেয় ৯টি শট, যার তিনটি লক্ষ্যভেদী। ম্যাচজুড়ে সিটির নিয়ন্ত্রিত ও সংগঠিত খেলা তাদের জয় এনে দেয়। ফলে ৩২ ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ম্যাঞ্চেস্টারে সিটি। তবে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। যদিও সমীকরণ এখন সিটির পক্ষেই। পরবর্তী ম্যাচে জয় পেলেই আর্সেনালকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে যেতে পারে। গত কয়েক মরসুম ধরেই শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে গানার্স। এবারও একই শঙ্কা ঘনিয়ে আসছে। বিশেষ করে শেষ কয়েক ম্যাচে তাদের অনিয়মিত পারফরম্যান্স উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সমর্থকদের মধ্যে। এদিন হারের পর আর্তেতা স্বীকার করেছেন, ম্যান সিটি আক্রমণে অনেক বেশি ধারালো ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে, আমরা লড়াইয়ে আছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুই ডি-বক্সের লড়াইয়েই পার্থক্য তৈরি হয়ে গেছে। ফিনিশিংই দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। এখানে ভাগ্যের ব্যাপার থাকে, টাইমিং থাকে এবং মাঠে সঠিকভাবে প্রয়োগের বিষয় থাকে। অনেক কিছুই আপনার পক্ষে যেতে হয়, যেই মুহূর্তগুলোর ওপরই শেষ পর্যন্ত জয় বা পরাজয় নির্ভর করে। আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিছু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মুহূর্ত প্রয়োজন।’
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

