AB Live News
নির্বাচন কমিশনে জ্ঞানেশের একক রাজত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোপ
শিবনাথ দাস : দেশের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ভেঙে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি মঙ্গলবার গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধানের অবমাননা এবং প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ওঠা এই গুরুতর বিষয়ের শুনানি আগামী সপ্তাহেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাথায় বসে একনায়কতন্ত্র চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় কমিশনের বর্তমান ভূমিকা তুলে ধরে জরুরি শুনানির দাবি জানান। তিনি আদালতে জোর সওয়াল করে বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে কোনও একজন ব্যক্তির স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করেনি। নির্বাচন কমিশন একটি যৌথ সাংবিধানিক সংস্থা, যার ক্ষমতা সমষ্টিগতভাবে প্রয়োগ করাই সংবিধানের নির্দেশ। কমিশনের যে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা কমিশনারদের মধ্যে মতভেদ থাকলে গণতান্ত্রিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার সংবিধানের এই যৌথ নেতৃত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় একক ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন।এই ঐতিহাসিক মামলার নেপথ্যে রয়েছে কমিশনের ভেতরের সংঘাতের নজিরবিহীন তথ্য। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের বিস্ফোরক প্রতিবেদনে ফাঁস হয়ে যায় যে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী বিগত দশ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, ফর্ম ৬ এবং কমিশনের স্পর্শকাতর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা পরিচালনা সংক্রান্ত অন্তত চোদ্দটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখিত আপত্তি ও ভিন্নমত জানিয়েছিলেন। অন্য দুই কমিশনারের লিখিত বিরোধিতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একক ক্ষমতাবলে একের পর এক সিদ্ধান্ত বলবৎ করে গিয়েছেন। যদিও কমিশন দাবি করেছে যে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল, কিন্তু নথি অন্য কথা বলছে।মামলাকারীদের স্পষ্ট দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কোন গোপন এজেন্ডা রূপায়ণ করতে অন্য দুই কমিশনারের মতামতকে পদদলিত করছেন, তার যাবতীয় নথি ও প্রমাণ আদালত তলব করুক। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও বিচারাধীন রয়েছে। কোটি কোটি ভোটারের তথ্যভাণ্ডার এবং দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষায় আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ কী কঠোর পদক্ষেপ করে, সে দিকেই এখন গোটা দেশের নজর।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

