AB Live News
সবুজসাথী বদলে সারথি, অষ্টম শ্রেণিতেই সাইকেল
শিবনাথ দাস : রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলির পড়ুয়াদের যাতায়াত সুগম করতে পূর্বতন সরকারের চালু করা সাইকেল প্রদান প্রকল্পে বড়সড় রদবদল ঘটাল বর্তমান রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হল ‘সারথি’। শুধু নামবদলই নয়, প্রকল্পের আওতা ও নিয়মেও আনা হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন। এতদিন নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা এই প্রকল্পের আওতায় সাইকেল পেত। তবে এবার থেকে এক ধাপ এগিয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরত অবস্থাতেই পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সম্পূর্ণ নতুন রূপরেখার এই সাইকেল। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে নতুন এই ‘সারথি’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পের নতুন সরকারি লোগো উন্মোচন করেন।অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, এই রূপান্তর নিছক কোনও নাম বা বাহ্যিক প্রতীকের পরিবর্তন নয়, বরং পড়ুয়াদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সাইকেলের স্থায়ী গুণমান নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। বিগত সরকারের আমলে ভিনরাজ্য থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ এনে এখানে জোড়াতালি দিয়ে বিতরণ করা হত বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রভাবশালী দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র জড়িত ছিল এবং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় করা হত। বর্তমান প্রশাসন সেই চক্র ভেঙে দিয়েছে। এবার সাইকেলের ফ্রেঞ্চ, ফর্ক, মাডগার্ড থেকে শুরু করে প্রতিটি যন্ত্রাংশের মান কড়া নজরদারিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। নতুন সাইকেলে দৃশ্যমানতা বাড়াতে উন্নত মানের আলো ও দীর্ঘস্থায়ী টায়ারের সংযোজন করা হয়েছে, যাতে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা ভোরবেলা কিংবা সন্ধ্যার আবছা আলোতেও নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভিনরাজ্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে এবার বাংলার বুকেই নিজস্ব সাইকেল নির্মাণ শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার জমি বরাদ্দের রূপরেখা তৈরি করছে। এতে একদিকে যেমন সাইকেলের গুণমান বজায় থাকবে, অন্যদিকে রাজ্যের বহু যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষেই গোটা রাজ্যে প্রায় ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার ছাত্রছাত্রীর হাতে এই ‘সারথি’ সাইকেল তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা যাতে দূরবর্তী বিদ্যালয়ে যাতায়াতের অভাবে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে না দেয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই অষ্টম শ্রেণি থেকেই এই পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

