AB Live News
দেশবিরোধী শক্তির মদতদাতা মমতার গতিবিধিতে কেন্দ্রীয় নজরদারি চান শুভেন্দু
শিবনাথ দাস : জাতীয় রাজনীতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলির তৎপরতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ঘিরে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বামপন্থী নেতা এম এ বেবির সঙ্গে সমন্বয়ের পর মমতার এই রাজধানী যাত্রার প্রস্তুতিকে চরম ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চালানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তি এবং দিমাগী নকশালদের মদতদাতাদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর না রাখলে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা চরম বিঘ্নিত হতে পারে। মঙ্গলবার এক কড়া সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের এই জোটবদ্ধ হওয়ার প্রয়াসকে নস্যাৎ করে দিয়ে বলেন, অতীতেও অনেকে দিল্লি গিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সিপিএম নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন করে বাংলা ও দেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করতেই উনি ফের দিল্লি যাচ্ছেন। যিনি প্রকাশ্যে বিভিন্ন মঞ্চ থেকে আজাদি স্লোগান তোলার সুযোগ করে দেন, তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আমি দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং দিল্লি পুলিশের কাছে সরাসরি অনুরোধ জানাচ্ছি। যাতে কোনও অবস্থাতেই দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির সঙ্গে তাঁর পুনরায় গোপন বৈঠক বা ষড়যন্ত্রের রাস্তা তৈরি না হতে পারে। তিনি আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, এখন ওঁর মূল পরামর্শদাতা হয়ে উঠেছে সমাজের একদল চরমপন্থী উগ্র মানসিকতার মানুষ। এক হাতে জামাত আর অন্য হাতে দিমাগী নকশাল— এই বিপজ্জনক ভারসাম্য নিয়েই এখন ওঁর সার্বিক রাজনীতি পরিচালিত হচ্ছে।এ দিনই নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের মনোনয়ন সংক্রান্ত হলফনামাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিরোধীদের দায়ের করা রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ। আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক খবর পাওয়া গিয়েছে। আমাদের নন্দীগ্রামের যোগ্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি নামসর্বস্ব সাইনবোর্ড পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মামলা ঠুকেছিল। আদালত সেই আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে বিরোধীদের মুখের ওপর সপাটে জবাব দিয়েছে। বিরোধীদের চক্রান্তের রাজনীতি যে বারবার বিচারব্যবস্থার দরবারে আছড়ে পড়ে চূর্ণ হচ্ছে, এই রায় তারই প্রমাণ।?অন্য দিকে, দুর্গাপূজার ভিআইপি প্রবেশপত্র বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন-সহ বিভিন্ন ঠিকানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশি অভিযান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ব্যঙ্গ করেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি তীব্র শ্লেষের সঙ্গে মন্তব্য করেন, ওদের স্বভাব কোনও দিন বদলাবে না। অতীতে তো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষের ত্রাণের চালের প্যাকেট থেকেও ওদের নেতাদের কাটমানির টাকা উদ্ধার হত। ফলে পুজোর নামে যারা তোলাবাজির জাল বিস্তার করে, তাদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দেবে, এতে আর আশ্চর্য হওয়ার কী আছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই লাগাতার ও চাঁচাছোলা আক্রমণ শাসক-বিরোধী দ্বৈরথকে এক অভূতপূর্ব সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

