AB Live News
নীরবতার দ্বিচারিতা: তোপে ‘ক্ষমতায়ন’
মণিপুরের সেই হাড়হিম করা ঘটনার রেশ আজও কাটেনি দেশবাসীর মন থেকে। কিন্তু সেই ভয়াবহ আবহে যারা রহস্যজনক নীরবতা পালন করেছিলেন, আজ তাঁদের মুখেই নারী ক্ষমতায়নের বুলি শুনে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জনপ্রিয় লোকগায়িকা নেহা সিং রাঠোর। সমাজের তথাকথিত প্রভাবশালী অংশের এই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
তীব্র কটাক্ষের সুরে নেহা বলেন, “মণিপুরে মেয়েদের লাঞ্ছিত করে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানো হলো, অথচ তখন যারা মুখে কুলুপ এঁটে বসেছিলেন, তাঁরাই আজ বড় বড় মঞ্চে নারী অধিকার আর নারী ক্ষমতায়নের কথা বলছেন! এটা কেবল হাস্যকর নয়, বরং অত্যন্ত লজ্জাজনক।” তাঁর মতে, নারী সুরক্ষা কোনো নির্বাচনী প্রচার বা রাজনীতির গুটি হওয়া উচিত নয়; বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার।
উল্লেখ্য, মণিপুরে দুই মহিলাকে নিগ্রহের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় নীরব থাকায় প্রশ্ন উঠেছিল তাঁদের নৈতিকতা নিয়ে। নেহা সিং রাঠোর অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সময়ে অনেকেই নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নারী অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছেন, কিন্তু মণিপুরের মতো নারকীয় ঘটনার সময় তাঁদের এই সংবেদনশীলতা কোথায় ছিল?
তিনি সাফ জানিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই হতে হবে আপসহীন এবং নিরপেক্ষ। নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বেছে নিয়ে তার ভিত্তিতে প্রতিবাদ জানানো আর অন্য সময়ে চোখ বুজে থাকা আসলে এক ধরণের কপটতা। লোকগায়িকার এই সাহসী বয়ান ইতিমধ্যে জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন যে, প্রতিবাদের ভাষা যদি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বদলাতে থাকে, তবে প্রকৃত নারী সুরক্ষা কোনোদিনও বাস্তবায়িত হবে না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

