AB Live News
দরকার হলে ওদের চাকরি আমরা দেব, একজনকেও ছাড়ব না’, আইপ্যাক ইস্যুতে রণংদেহী মমতা
ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে বঙ্গে। আর সেই আবহেই রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তারকেশ্বরের পুণ্যভূমি থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং নাম না করে বিজেপি-কে। গত কয়েকদিন ধরে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, বাংলায় তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC) তাদের কাজ গুটিয়ে নিচ্ছে। সেই জল্পনাকে নসাৎ করার পাশাপাশি এদিন দলনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দিলেন— “চাপ দিয়ে লাভ নেই, দরকার হলে ওদের আমাদের দলেই চাকরি দেব।”
বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি সক্রিয়তা এবং আইনি জটিলতার আশঙ্কায় আইপ্যাক বাংলার মাটি ছাড়তে পারে। কিন্তু রবিবার তারকেশ্বরের জনসভা থেকে সেই মেঘ এক লহমায় উড়িয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মমতার অভিযোগ, বেছে বেছে তৃণমূলের সহায়ক শক্তিগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে। জনসভার গর্জন তুলে তিনি বলেন, “আমাদের এজেন্সিগুলোকে বলছ যারা আমাদের পার্টির কাজ করে বাংলা ছেড়ে চলে যাও। কেন? তোমাদের তো ৫০টা আছে। আমাদের ক্ষমতা নেই, আমাদের একটা আছে বলে হিংসে?”
আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার যুবক-যুবতী মূলত তথ্য বিশ্লেষণ এবং রণকৌশল তৈরির কাজ করেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মানবিক ও রাজনৈতিক— উভয় অবস্থান থেকেই বড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “শুনুন, ওদের ভয় দেখালে ওরা আমাদের দলে যোগ দেবে। প্রয়োজনে আমরাই ওদের চাকরির বন্দোবস্ত করব। একটি ছেলেকেও আমরা চাকরিহারা হতে দেব না। এই লড়াইয়ে আমি ওদের পাশে আছি।”
এদিনের সভার আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা। তৃণমূলের অন্দরে আইপ্যাক এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমন্বয় অত্যন্ত নিবিড়। তাই জল্পনা ওড়াতে নেত্রী এদিন খোদ অভিষেকের নাম টেনে এনে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আইপ্যাকের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
ভোটের মুখে বারেবারে ইডি ও সিবিআই তল্লাশি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ছিলেন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। তাঁর প্রশ্ন, “ভোটের সময় কেন ভাই? এখন মনে পড়ল? সারা বছর কি ঘুমিয়ে ছিলে?” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইপ্যাককে নিশানা করা মানে আসলে তৃণমূলের প্রচার যন্ত্রকে স্তব্ধ করার চেষ্টা। আর সেই লক্ষ্যেই এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
অন্যদিকে, আইপ্যাকের কাজ বন্ধ হওয়া নিয়ে বিরোধীরা মুচকি হাসলেও, মমতার এই ‘চাকরি দেওয়ার’ মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটকুশলীদের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মমতা আসলে সরকারি ও দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তবে তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, যারা বাংলার উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যুক্তি দিয়ে কাজ করছে, তাদের রক্ষা করা রাজ্য সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
এক নজরে মুখ্যমন্ত্রীর মূল হুঙ্কার:
আইপ্যাক ছাড়ার খবর সম্পূর্ণ গুজব।
কর্মীদের ভয় দেখালে তাঁদের সরাসরি তৃণমূলের কাজে নিয়োগ করা হবে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘সক্রিয়তা’ আসলে ভোটের হার বাঁচানোর কৌশল।
একজন কর্মীরও রুজি-রুটিতে টান পড়তে দেবেন না নেত্রী।
বিকেলে সভা শেষে কলকাতা ফেরার পথেও তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব থেকে একই সুর শোনা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মমতার এই ‘রণংদেহী’ মেজাজ ভোটের ময়দানে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল যেমন বাড়াবে, তেমনই ভোটকুশলীদের মনেও নিরাপত্তা বোধ তৈরি করবে। এখন দেখার, এই সংঘাতের রেশ কতদূর গড়ায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

