AB Live News
পাহাড়ে প্রকৃতির তাণ্ডব: মেঘভাঙা বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড দুধিয়া, হড়পা বানে বিচ্ছিন্ন দার্জিলিং-মিরিক সংযোগ!
ফের প্রকৃতির রোষের মুখে উত্তরবঙ্গ। শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া প্রবল মেঘভাঙা বৃষ্টিতে (Cloudburst) বিপর্যস্ত পাহাড় ও সমতলের জনজীবন। বৃষ্টির জেরে আসা ভয়াবহ হড়পা বানে (Flash Flood) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দার্জিলিং জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী মাধ্যম ‘দুধিয়া হিমপাইপ সেতু’। এর ফলে পর্যটন মানচিত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় রুট মিরিক হয়ে দার্জিলিঙের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আপাতত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শনিবারের সেই অভিশপ্ত সন্ধ্যা: মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বান
শনিবার দুপুরের পর থেকেই পাহাড়ের আকাশ কালো করে নামে প্রবল বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদদের মতে, উপত্যকায় আটকে পড়া মেঘ থেকে আচমকাই ‘মেঘভাঙা বৃষ্টি’ শুরু হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পাহাড়ের নদীগুলোর ওপর। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই ফুঁসতে শুরু করে বালাসন ও তিস্তা।
বালাসন নদীতে জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বান নেমে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যে গর্জনে ফেটে পড়ে শান্ত বালাসন নদী। জলের তোড়ে ভেসে আসে বিশাল বিশাল পাথরের চাঁই ও উপড়ে যাওয়া গাছ, যা আঘাত করে দুধিয়ার নবনির্মিত বিকল্প সেতুটিতে।
ক্ষতিগ্রস্ত দুধিয়া সেতু: বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ
গত বছরের অক্টোবর মাসের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই সময় বালাসনের মূল সেতুর তিন নম্বর পিলারটি ভেঙে পড়লে উত্তরবঙ্গ সফররত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই ‘হিমপাইপ সেতু’টি তৈরি করা হয়েছিল। মিরিক এবং দার্জিলিঙের মানুষের কাছে এই বিকল্প পথটি ছিল লাইফলাইন।
কিন্তু শনিবার রাতের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে সেই হিমপাইপ সেতুর একাংশ ধসে গিয়েছে। সেতুর সংযোগকারী রাস্তার মাটিও ধুয়ে চলে গেছে নদীগর্ভে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার খাতিরে মিরিক-শিলিগুড়ি রোডের ওই অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেতুর কাঠামোগত ক্ষতি কতটা গভীর, তা পর্যালোচনার জন্য পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের তলব করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে স্থানীয়দের বীরত্ব
হড়পা বান যখন আছড়ে পড়ে, তখন দুধিয়া সংলগ্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় কয়েকজন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আটকে পড়েছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। জল হু হু করে বাড়তে থাকায় প্রাণ সংশয় দেখা দিয়েছিল তাঁদের। খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা না করেই উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দড়ি এবং মানব-শৃঙ্খল তৈরি করে একে একে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর নেই, তবে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর।
পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব ও বিকল্প পথ
দুধিয়া সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রী ও পর্যটকেরা।
মিরিক রুট: আপাতত শিলিগুড়ি থেকে মিরিক হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার পথটি বন্ধ।
বিকল্প পথ: পাহাড়ের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে গাড়িগুলিকে রোহিনী রোড এবং পঙ্খাবাড়ি হয়ে কার্শিয়াং দিয়ে দার্জিলিঙে ঘোরানো হচ্ছে।
আশঙ্কা: পর্যটন মরসুমের ঠিক আগে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও চিন্তিত।
অতীতের পুনরাবৃত্তি: উদ্বেগে প্রশাসন
গত বছরের অক্টোবরেও এই এলাকাতেই নেমেছিল মরণধস। বহু মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ক্ষত এখনও শুকায়নি। তার ওপর এই নতুন করে মেঘভাঙা বৃষ্টির পূর্বাভাস পাহাড়বাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নদীর পাড়ে কাউকেই যেতে দেওয়া হবে না। তিস্তা ও বালাসনের সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (NDRF/SDRF) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা পাহাড়ের জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

