AB Live News
লালবাগে হনুমান বিতর্কে সিপিএম ও বজরং দল সংঘর্ষ
শিবনাথ দাস : হনুমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাতে তীব্র উত্তেজনা ও রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক লালবাগে। নিমতলা মোড় চত্বরে সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে একাধিক হিন্দু সংগঠনের কর্মীদের প্রথমে তীব্র বচসা শুরু হয়, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ নেয়। ঘটনায় দু’পক্ষের একাধিক কর্মী ও পথচারী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য কর্মসূচিতে সিপিএমের পক্ষ থেকে হনুমানকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা নিমতলা মোড় এলাকায় একটি প্রতিবাদী জমায়েতের ডাক দেন। সেই জমায়েত চলাকালীন পাশেই উপস্থিত বাম কর্মীদের সাথে তাঁদের তীব্র তর্কাতর্কি ও কটূক্তি বিনিময় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এবং দুই শিবিরের মধ্যে প্রকাশ্য রাজপথে শুরু হয়ে যায় লাঠালাঠি ও হাতাহাতি।কিছুক্ষণের মধ্যেই এই উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়ে লালবাগের অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকাতেও। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ পুরসভা সংলগ্ন সিপিএম দলীয় কার্যালয়ের সামনে নতুন করে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ, সেখানে সিপিএম এবং বজরং দলের উন্মত্ত কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও ইটবৃষ্টি চলে। এমনকি বামেদের দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে দ্রুত এসে পৌঁছন ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী-সমর্থকরাও, যার ফলে গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা ধারণ করে এবং স্থানীয় দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি বিশাল পুলিশ ও কমব্যাট ফোর্স নিয়ে অকুস্থলে পৌঁছন মুর্শিদাবাদ থানার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয় এবং উন্মত্ত জমায়েতকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতে হয়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঠিক কী ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছিল এবং সেই নির্দিষ্ট মন্তব্যের জেরেই পরিকল্পিত ভাবে এই সংঘাত বাধানো হয়েছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাতের অন্ধকারে এলাকায় ভাঙচুর ও হানাহানির ঘটনায় কারা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার কাজ চলছে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশি টহলদারি ও নাকা চেকিং জারি রয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

