Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

রাজনীতির ময়দানে মমতার সাফ বার্তা,ফেরার সময় কমছে, সিদ্ধান্ত নিন দ্রুত

0 6,675

শ্রীতমা ব্যানার্জী ::রাজনীতিতে কখনও কখনও একটি সময়সীমা শুধু সময়ের হিসাব থাকে না, হয়ে ওঠে প্রত্যাবর্তনের দরজা। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় তৃণমূলের সাংগঠনিক সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া ‘পনেরো দিনের’ বার্তাও যেন তেমনই এক রাজনৈতিক সংকেত।বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় সংগঠনের টানাপোড়েন, নেতা-কর্মীদের ভিন্নমুখী অবস্থান এবং রাজনৈতিক ভাঙনের আবহে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের এই সভা ছিল শক্তি প্রদর্শনেরও এক প্রয়াস। সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল দল ছেড়ে যাওয়া সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা—ফিরে আসতে হলে সময় খুব বেশি নেই। পনেরো দিনের মধ্যে ফিরে এলে জায়গা থাকতে পারে, তার পরে নয়।এই বার্তার মধ্যে যেমন রয়েছে রাজনৈতিক কড়াকড়ি, তেমনই রয়েছে সংগঠনকে পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা। মমতার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের গুরুত্ব। নেতারা দল ছেড়ে যেতে পারেন, মত বদলাতে পারেন, কিন্তু মাটির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাই যে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকৃত ভিত্তি—সেই পুরনো রাজনৈতিক দর্শনকেই তিনি আবার সামনে এনেছেন।উত্তর দিনাজপুরের মাটিতে তাই রবিবারের সভা নিছক একটি দলীয় কর্মসূচি ছিল না। সেটি ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা। পরাজয়ের পরে সংগঠন কতটা অটুট, কর্মীদের মনোবল কোথায় দাঁড়িয়ে এবং ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য দল কতটা প্রস্তুত—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছিল তৃণমূলের নেতৃত্ব।তবে সভাকে ঘিরে বিতর্কও কম ছিল না। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ এবং ‘গো ব্যাক’, ‘চোর চোর’ স্লোগানের অভিযোগ ওঠে। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনাটি উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক পরিবেশের টানাপোড়েনকেও সামনে নিয়ে আসে।অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে ছিল রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রত্যয়—দল তৈরি করার লড়াই তিনি একবার করেছেন, প্রয়োজন হলে আবারও সংগঠনকে শক্তিশালী করার লড়াই করতে পারবেন।রাজনীতির ময়দানে ‘ফিরে আসা’ শব্দটির অর্থ অনেক গভীর। কেউ ফিরে আসেন দলে, কেউ ফিরে আসেন জনতার কাছে, আবার কেউ ফিরে আসেন হারানো আত্মবিশ্বাস নিয়ে। উত্তর দিনাজপুরের সভা থেকে দেওয়া পনেরো দিনের ডাক তাই শুধু দলত্যাগী নেতাদের উদ্দেশে নয়; এটি যেন সংগঠনের প্রতিটি স্তরের কাছে একটি প্রশ্ন,ভাঙনের পরে কি আবার নতুন করে ঘর বাঁধা সম্ভব? উত্তর অবশ্য সময়ই দেবে। তবে আপাতত মমতার বার্তা স্পষ্ট,দলের দরজা চিরদিন খোলা থাকবে না, আর যে ঘরটিকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা চলছে, সেখানে শেষ কথা বলবেন মাটির কর্মীরাই।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper