Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

বনগাঁ সীমান্তে আইএসআই -র ছায়া! ভুয়ো আধারে ১৪ বছর ভারতে, এস টি এফ -এর জালে পাক সন্দেহভাজন

0 4,358,242

শ্রীতমা ব্যানার্জী : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ থেকে সন্দেহভাজন পাক নাগরিক ও আইএসআই -র সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। বুধবার ভোরে গোপন সূত্রে অভিযান চালিয়ে রানা রউফ নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এস টি এফ -এর দাবি, ভারতে তিনি ‘ওয়াহাব আলম’ নামে ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করছিলেন এবং জাল নথি ব্যবহার করছিলেন।

এস টি এফ  সূত্রে জানা গিয়েছে, রউফের আসল বাড়ি পাকিস্তানের ফৈসলাবাদে। ২০১২ সালে নেপাল হয়ে ভারতে ঢোকার পর তিনি পশ্চিমবঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সন্ত্রাস-সংক্রান্ত কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের সময় রউফের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নথি ও ছবি উদ্ধার হয়েছে বলে এস টি এফ  জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ছবির মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রেলস্টেশন, ট্রেন চলাচল এবং রেললাইনের ছবি রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় সেনা সংক্রান্ত কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

এস টি এফ -এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রউফ একাধিক মোবাইল নম্বরে ওই ছবি পাঠিয়েছিলেন। সেই নম্বরগুলির মালিকদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, ওই তথ্যের বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে রউফের যোগাযোগের পরিধি এবং বাংলাদেশের দিকে তাঁকে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার জন্য কে বা কারা অপেক্ষা করছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

জিজ্ঞাসাবাদে রউফ দাবি করেছেন, কলকাতার টপসিয়া এলাকার এক কাঠমিস্ত্রি তাঁকে ভুয়ো ভারতীয় নথি জোগাড় করে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডও ছিল বলে এস টি এস  সূত্রে খবর। নেপালে থাকার সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে রউফের পরিচয় হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। রউফের বয়ানের ভিত্তিতে ওই কাঠমিস্ত্রিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

এস টি এফ  সূত্রের দাবি, ওই কাঠমিস্ত্রির গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন রউফ। নির্দিষ্ট সূত্রে তাঁর পালানোর পরিকল্পনার খবর পেয়ে বনগাঁয় তল্লাশি অভিযান চালায় এস টি এফ । বুধবার ভোরে সেই অভিযানেই ধরা পড়েন তিনি।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, রউফ বেশ কয়েক বছর ধরে আইএসআই -এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন এবং ভারতীয় আধিকারিকদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে থাকতে পারেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির পূর্ণ সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারির অভিযোগে সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ  যোগ থাকা হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল এস টি এফ । পরে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁর সহযোগী অর্পিতা সরকার এবং হাওড়ার এক কলেজ পড়ুয়া আদিত্য সিংকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে বুধবার এস টি এফ  স্পষ্ট করেছে, রানা রউফের সঙ্গে হামিম মণ্ডলের কোনও যোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

এই গ্রেফতার ঘিরে রাজ্যের নিরাপত্তা ও সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছেন, বেআইনি অনুপ্রবেশের ফলে তৈরি হওয়া নেটওয়ার্ক ভাঙতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

রউফের সঙ্গে আই এস আই -এর প্রকৃত যোগাযোগ কতটা গভীর ছিল, তিনি কী ধরনের তথ্য পাচার করতেন এবং এই চক্রে আরও কারা জড়িত—এই তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এস টি এফ ।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper