AB Live News
উত্তর কলকাতার সরকারি স্কুলে ইনফ্লুয়েঞ্জার হানা, অসুস্থ ৩১ পড়ুয়া! আর জি কর -এ ভর্তি ৯, বন্ধ হস্টেল
শ্রীতমা ব্যানার্জী :উত্তর কলকাতার একটি সরকারি স্কুলের হস্টেলে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ল ৩১ জন ছাত্রী। তাঁদের মধ্যে ছয় জনের নমুনায় ইনফ্লুয়েঞ্জা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এখনও ৯ জন ছাত্রী আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ১৬ জনকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুর ও বিকেল থেকেই একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হতে শুরু করেন। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বমি, পেটে ব্যথা এবং বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা যায় তাঁদের মধ্যে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে ২৪ জন ছাত্রীকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার সকালে আরও সাত জনকে হাসপাতালে আনা হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই হাসপাতালে ছাত্রীদের দেখতে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শরদ্বত মুখোপাধ্যায়। পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ছয়টি নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গিয়েছে এবং সবকটিতেই ইনফ্লুয়েঞ্জা ধরা পড়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, হস্টেল যেহেতু একটি বদ্ধ পরিবেশ, তাই সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, অসুস্থ হওয়ার দু’-তিন দিন আগেই বেশ কয়েক জন ছাত্রীর জ্বর হয়েছিল। বাকি পড়ুয়াদের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের রিপোর্টও নজরে রাখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি ছাত্রীদের আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা উপসর্গ অনুযায়ী তাঁদের চিকিৎসা করছেন। কয়েক জনের মধ্যে আতঙ্কজনিত সমস্যাও দেখা গিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
ঘটনার পর আপাতত হস্টেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষিকা অলকানন্দা মজুমদার জানান, পরীক্ষা চলায় দুপুর ৩টা পর্যন্ত ছাত্রীদের মিড-ডে মিল দেওয়া হয়েছিল। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ হস্টেল থেকে একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হওয়ার খবর আসতে শুরু করে।প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্রীদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ২০১৩ সাল থেকে এই হস্টেল চলছে, কিন্তু এর আগে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি বলেও জানান তিনি। হাসপাতালে ভর্তি ছাত্রীদের অভিভাবকদেরও খবর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, খাবার থেকেই কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভা, স্বাস্থ্য দফতর এবং ফুড সেফটি দফতরের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে মিড-ডে মিল তৈরির জায়গা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে খাবার ও জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুল ও হস্টেল থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হবে। একসঙ্গে এতজন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্কুলের পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ছাত্রীরা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে স্বাস্থ্য দফতর।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

