Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

“তৃণমূল ছেড়ে প্রথম পদক্ষেপ— সোজা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার কক্ষে চন্দ্রিমা।”

0 18,907,612

 বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এবার তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙনের মুখে পড়ল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে চলা নজিরবিহীন টানাপড়েন ও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তীব্র মতভেদের জেরে এবার সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শনিবার সকালে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। কেবল রাজ্য সভাপতির পদই নয়, দলের সমস্ত রকমের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতিনিধি এবং দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ‘অথরাইজড সিগনেটরি’ বা অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর দায়িত্ব থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর যখন ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে চরম ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে চন্দ্রিমার এই ইস্তফা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের কাছে এক বিরাট ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

দলীয় সূত্রের খবর, কলকাতা মেট্রোপলিটন ভবনে অবস্থিত তৃণমূলের রাজ্য দলীয় কার্যালয়ের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার দলের দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলীয় একটি ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী ওই কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে চন্দ্রিমার প্রতি চরম ক্ষোভ ও ভর্ৎসনা প্রকাশ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, মেট্রোপলিটন ভবনে দলের কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন বিধায়ক এসেছিলেন। তিনি যতক্ষণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ততক্ষণ ওই বিধায়করা তাঁর সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। পরবর্তীতে তিনি বাড়ি ফিরে আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করার নির্দেশ দেন। চন্দ্রিমা যখন নেত্রীকে ফোন করেন, তখন মমতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?’ নেত্রীর মুখ থেকে এই ধরণের কথা শোনার পর চন্দ্রিমার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং তিনি চরম মানসিক আঘাত পান। নেত্রীর এই ভর্ৎসনার পরেই তিনি দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আর কোনওদিন কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়েও যাবেন না।

উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী সৌরভ সিকদারের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে দলের এই বড় ধরণের বিপর্যয়ের পর গত ৫ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে দলের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে সরিয়ে চন্দ্রিমার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি এই পদ ত্যাগ করলেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, চন্দ্রিমার পুত্র তথা কলকাতা পুরসভার ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৌরভ বসু কয়েক দিন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী কাউন্সিলর ও বিধায়কদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দলের অন্দরে চোরা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শুক্রবারের ঘটনার পর সেই ফাটল আরও চওড়া হল এবং চন্দ্রিমা নিজেই নেত্রীর দেওয়া সমস্ত দায়িত্ব এক ঝটকায় ঝেড়ে ফেললেন।

চন্দ্রিমার এই ইস্তফাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবির। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা চন্দ্রিমার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে এখন আর কাজ করার মতো কোনও সুস্থ পরিবেশ নেই। গত ২২ জুন আমরা যে জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছি, সেখানে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব রয়েছে। কালীঘাটের পক্ষ থেকে যাঁকেই কোনও পদে বসানো হচ্ছে, তিনিই পদত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।’ অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের সাংসদ শমিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ধস এখন পুরোপুরি প্রমাণিত। যারা বিগত পনেরো বছর ধরে রাজ্যের গরিব ও ধনী উভয় পক্ষকেই শোষণ করেছে, তাদের এই পতন অনিবার্য ছিল। দলটা যে আর কাজ করার অবস্থায় নেই, চন্দ্রিমার ইস্তফা তারই প্রমাণ দেয়।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের প্রতীক, তহবিল এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে দলটির দুই শিবিরের মধ্যে আইনি লড়াই যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে, ঠিক তখনই চন্দ্রিমার মতো এক বিশ্বস্ত নেত্রীর দল ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে অত্যন্ত ব্যাকফুটে ঠেলে দিল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper