Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

মদনের কামারহাটির বাড়িতে তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ

0 50,932,887

 রবিবাসরীয় দুপুরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি এলাকায়। কামারহাটির দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রের কামারহাটির বাড়িতে আচমকাই হানা দিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। শুধু হানাই নয়, বাড়িটি তালাবন্ধ থাকায় শেষপর্যন্ত ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। এই ঘটনায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল তথা গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের সরাসরি নেতৃত্বে এই নজিরবিহীন ও হাইপ্রোফাইল তল্লাশি অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শাসকদলের একজন প্রভাবশালী বিধায়কের বাড়িতে এভাবে ভরদুপুরে পুলিশি অভিযানের ঘটনায় স্বভাবতই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রবিবার বেলা একটা নাগাদ হঠাৎ করেই কামারহাটির রথতলা সংলগ্ন ওই বাড়িটির সামনে এসে দাঁড়ায় পুলিশের কয়েকটি গাড়ি। বাড়িটির নাম ‘উদয় ভিলা’। কামারহাটি এলাকার অত্যন্ত পরিচিত এই বাড়িটিতে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কার্যালয়ও রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন প্রয়োজনে এই কার্যালয়ে আসেন। তবে গতকাল রবিবার দুপুরে পুলিশ যখন সেখানে পৌঁছায়, তখন বাড়িটি সম্পূর্ণ জনশূন্য ও বাইরে থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। খোদ বিধায়ক মদন মিত্রও সেই সময় ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশ কর্মীরা প্রথমে বাড়ির আশপাশে খোঁজখবর নেন এবং বাড়ির কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষপর্যন্ত তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। ডেপুটি কমিশনারের উপস্থিতিতেই পুলিশ কর্মীরা ‘উদয় ভিলা’-র মূল ফটক ও ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন।

তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকার পর শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সাদা পোশাকের ও উর্দিধারী পুলিশ কর্মীরা ঘরের প্রতিটি কোণ, আলমারি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। বিধায়কের দলীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন ফাইল এবং কাগজপত্রের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় ধরে এই রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযান চলে। তবে তল্লাশি শেষ হওয়ার পর পুলিশ বাড়ি থেকে সুনির্দিষ্ট কী কী তথ্য বা নথি উদ্ধার করেছে, তা নিয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনও মুখ খোলেননি ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা। অভিযান শেষ করার পর পুলিশ কর্মীরা আবার একটি নতুন তালা এনে বাড়িটির মূল দরজায় ঝুলিয়ে দেন এবং পুরো চত্বরটি সিল করে দিয়ে সেখান থেকে সগৌরবে বেরিয়ে যান।

কিন্তু হঠাৎ কেন প্রাক্তন শাসকদলের খাস বিধায়কের ডেরায় এভাবে হানা দিল পুলিশ? এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ জল্পনা তৈরি হলেও প্রাথমিক তদন্তের পর আসল কারণটি সামনে এসেছে। পুলিশের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, যে জমির ওপর এই বিশাল ‘উদয় ভিলা’ ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে, সেই জমিটি আসলে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন। ওই কেন্দ্রীয় সংস্থার জমি বেআইনিভাবে দখল করে বা জবরদখল করে এই বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে বলে একটি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল প্রশাসনের কাছে। কীভাবে এবং কার অনুমতিতে একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনস্থ জমিতে এই বহুতল ভবন এবং দলীয় কার্যালয় তৈরি করা হল, এর পিছনে কোনও বড়সড় জমি কেলেঙ্কারি বা বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই মূলত এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই জমির আসল চরিত্র কী এবং এর মালিকানার সপক্ষে বিধায়কের কাছে কোনও বৈধ নথিপত্র রয়েছে কি না।

তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে এই নজিরবিহীন পুলিশি হানার খবর চড়চড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার জমি দখল করে যারা বাহুবল দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলা হচ্ছে। সরকারি জমি সংক্রান্ত এই জট এবং খোদ দলেরই এক বিধায়কের বাড়িতে তালা ভেঙে পুলিশের এই আকস্মিক প্রবেশ নিয়ে কামারহাটি সহ গোটা জেলা জুড়ে এই মুহূর্তে চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper