Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

সোমবারই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা, গুরুত্বপূর্ণ অর্থ দপ্তর নিজের হাতেই রাখছেন শুভেন্দু

0 409,876,599

 রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় কৌতূহল এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নতুন ক্যাবিনেটের রূপরেখা কেমন হতে চলেছে তা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজন মন্ত্রী প্রাথমিক দফায় শপথ নেওয়ার পর থেকেই বাকি মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে জল্পনা ও চর্চা তুঙ্গে উঠেছিল। অবশেষে রাজভবন এবং নবান্ন সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ খবরে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জল্পনায় ইতি পড়তে চলেছে। আগামী সোমবারই রাজভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ নিতে চলেছে রাজ্যের নতুন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা। মন্ত্রীদের চূড়ান্ত তালিকার পাশাপাশি কার কপালে কোন দপ্তর জুটছে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। জানা গিয়েছে, নতুন মুখ, অভিজ্ঞ পুরনো নেতৃত্ব এবং রাজ্যের সমস্ত জেলার সুষম প্রতিনিধিত্বের এক অপূর্ব মিশেলেই তৈরি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন ‘ক্যাবিনেট’। রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গঠিত এই শক্তিশালী মন্ত্রিসভায় সর্বমোট ৩৩ জন সদস্য থাকতে পারেন বলে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে কান পাতলে একটি জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালকে হয়তো এই নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। এমনকি নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনেও তাঁর প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে জোরদার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নবান্নের শীর্ষ সূত্রের খবর, রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অর্থ দপ্তরটি আপাতত নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অর্থমন্ত্রকের পাশাপাশি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরটিও মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতেই রাখতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে ব্যাপক শিল্প বিনিয়োগ এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করাই হল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অন্যতম প্রধান ও প্রথম লক্ষ্য। সেই কারণেই নিজের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অর্থ দপ্তর রেখে বিভিন্ন যুগান্তকারী জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারের অন্যান্য সবকটি দপ্তরে অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করতে চান তিনি। বিদায়ী তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের ঘাড়ে একদিকে যেমন জমেছে বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা, ঠিক তেমনই অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক লাভজনক প্রকল্পের সুবিধা সময়মতো গ্রহণ না করার ফলে রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব ও কোষাগারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পূর্বতন সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রাজ্যের সাধারণ মানুষের আর্থিক মান ক্রমশ নিম্নগামী হয়েছে এবং এটিকেই এখন প্রধান অন্তরায় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে রাজ্যকে নতুন করে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড় করানোকেই নিজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই অমোঘ কারণেই অর্থ দপ্তর নিজের অধীনে রেখে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন এবং গতিশীল রোডম্যাপ নিজে নির্ধারণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর মূল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্য হল, একদিকে যেমন রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা, অন্যদিকে ঠিক তেমনই রাজ্যে নতুন করে শিল্পায়নের একটি সুস্থ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে সেই উন্নয়নের সুফল একেবারে দূরদূরান্তের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে রাজ্যের যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করাও এই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিকল্প ও পুনরুজ্জীবিত অর্থনীতির কথাই বারবার সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। তাই ইস্তাহারে মানুষকে দেওয়া সেই সমস্ত পবিত্র প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করতেই শপথ গ্রহণের পর থেকে কার্যত উদয়াস্ত পরিশ্রম করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি অত্যন্ত কর্মঠ ও গতিশীল মন্ত্রিসভাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দলের সেই ঘোষিত লক্ষ্যপূরণের দিকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে চান। মূলত এই সমস্ত গুরুদায়িত্ব ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ দ্রুত রূপায়ণ করার উদ্দেশ্যেই অর্থদপ্তর নিজের খাসতালুকে রেখে রাজ্যের অগ্রগতির চাকা ঘোরাতে বদ্ধপরিকর নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper