Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

আসছে অন্নপূর্ণা যোজনা

0 390,769,041

 রাজ্যবাসীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার স্বার্থে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কল্যাণীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাজ্যে এবার চালু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা। এতদিন ধরে রাজ্যে চলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটিরই এবার ব্যাপক আধুনিকীকরণ, সংস্কার এবং রূপান্তর ঘটতে চলেছে এই নতুন সামাজিক সুরক্ষা যোজনার মাধ্যমে। তবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার সময়ে রাজ্যের মা-বোনেদের চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক যোগ্য নারী প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

আগামী বুধবার থেকেই এই প্রকল্পের মূল প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়ে যাচ্ছে। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, এই ফর্ম প্রকাশের অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। নবান্নে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের অন্যতম মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব। শীর্ষ স্তরের এই শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য জনসমক্ষে আনা হবে। বুধবার ফর্ম প্রকাশের পর মুহূর্ত থেকেই সাধারণ মানুষ অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই এই ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই আবেদন প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজ, সরল ও স্বচ্ছ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণ করার জন্য সাধারণ মানুষকে কোনওরকম প্রশাসনিক হয়রানি বা জটিলতার শিকার হতে হবে না। পুরো বিষয়টি শুধুমাত্র জনসাধারণের উপর ছেড়ে দিয়ে সরকার নিজের দায় এড়াবে না, বরং সাধারণ মানুষের দুয়ারে গিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল এবং জনমুখী করতে এক অভিনব ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়করা নিজে থেকে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী হয়ে নিজ নিজ এলাকার উপভোক্তাদের এই ফর্ম পূরণে সরাসরি সাহায্য করবেন। এর পাশাপাশি সরকারি স্তরেও এক বিশাল বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিওদের নেতৃত্বে বিশেষ সরকারি দল গঠন করা হবে। এই দলগুলি সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণের কাজে যাবতীয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। যার ফলে গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত এলাকার পিছিয়ে পড়া ও স্বল্পশিক্ষিত মহিলারাও কোনওরকম মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের চক্রে না পড়ে অত্যন্ত সহজে এবং নিরাপদে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। যত দ্রুত সম্ভব আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত যোগ্য মহিলাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যেমন যেমন ফর্ম পূরণ হবে এবং নথিবদ্ধকরণ সম্পূর্ণ হবে, ঠিক তেমনভাবেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩০০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে।

কল্যাণীর এই প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এই বিশাল সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের রূপরেখাটি চূড়ান্ত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিগত তৃণমূল জমানায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বজনপোষণ, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠত। প্রকৃত দরদী, অভাবী এবং দরিদ্র মানুষ প্রায়শই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন, অন্যদিকে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বিত্তবান নেত্রীরাই এই সুবিধা ভোগ করতেন। বর্তমান সরকার এই ধরনের কোনও বৈষম্য, দুর্নীতি বা অনিয়ম কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। এই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা যাতে রাজ্যের প্রতিটি কোণে থাকা প্রকৃত যোগ্য এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারী পান, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকার।

একই সঙ্গে এই নতুন প্রকল্পের উপভোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কড়া ও সংবেদনশীল বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জাতীয়তা ও নাগরিকত্বের বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন। বাংলাদেশ থেকে আসা কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী যাতে এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা কোনওভাবেই হাতিয়ে নিতে না পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নজরদারি চালানোর এবং কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের জনগণের কষ্টের ট্যাক্সের টাকা কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর পেছনে খরচ করা হবে না বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন।

মহিলাদের স্বনির্ভরতা, আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি যাতায়াতের সুবিধার্থেও এক অত্যন্ত বড়সড় ও আকর্ষণীয় উপহারের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সপ্তাহ থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। এই নিখরচায় বাস পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত রাজ্যের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। তবে এই ফ্রি বাস পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এক বিশেষ আধুনিক নিয়ম চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত সমস্ত মহিলাই এই বিনামূল্যে সরকারি বাসে ভ্রমণের সুযোগ পেলেও, পরবর্তী সময়ে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্মার্ট কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

পূর্বতন সরকারের আমলের চরম অব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এক বিশেষ রাজনৈতিক খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে অনেকেই নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেদের পোশাক বদলে বা মুখ ঢেকে সরকারি বাসের এই ধরনের সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করার চেষ্টা করতেন, যা বাসের কন্ডাক্টরদের পক্ষে চলন্ত বাসে চট করে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে উঠত। এই ধরনের কারচুপি, জালিয়াতি এবং সরকারি রাজস্বের অপচয় রুখতেই খুব দ্রুততার সঙ্গে এই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমেই আসল ও যোগ্য নারী উপভোক্তাদের অনায়াসে এবং নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে, যার ফলে গোটা ব্যবস্থার মধ্যে এক অনবদ্য স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। এর ফলে একদিকে যেমন অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে মহিলারা আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হবেন, অন্যদিকে তেমনই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে তাঁদের দৈনিক জীবনযাত্রা আরও সহজ, নিরাপদ ও মসৃণ হয়ে উঠবে। বুধবারের ফর্ম প্রকাশের পর থেকে গোটা রাজ্যে এই বিশাল প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞ শুরু হতে চলেছে, যার সুফলের দিকে এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper