AB Live News
যৌথ ফ্ল্যাট বিতর্কে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি সায়নীর
বিধানসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ মিটে গেলেও এ রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে স্বস্তি ও শান্তির পরিবেশ যেন কিছুতেই ফিরছে না। ভোটযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নতুন করে এক চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তথা গোটা রাজ্য রাজনীতিতে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে জড়িয়ে গেল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের জোড়াফুলের তারকা সাংসদ সায়নী ঘোষের নাম। সোশাল মিডিয়ায় আচমকাই একটি খবর ও কিছু নথি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, কলকাতার দমদমের কাছাকাছি ১৯ ডি সেভেন ট্যাঙ্কস রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষের যৌথ মালিকানায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি রয়েছে। কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) একটি মিউটেশন নোটিসকে হাতিয়ার করে এই খবরটি বিরোধীদের পক্ষ থেকে এবং সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আকারে প্রচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যখন তীব্র শোরগোল এবং চাপানউতোর তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই জল্পনা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে সোচ্চার হলেন খোদ যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। তিনি এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং যাঁরা তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সোশাল মিডিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তৃণমূল শিবিরের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী শিবির নানামুখী প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং কুৎসার যোগ্য জবাব দিতে নিজের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলকে বেছে নেন সায়নী ঘোষ। সেখানে একটি অত্যন্ত কড়া পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। সায়নী স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, বেশ কিছু ফরওয়ার্ড মেসেজ এবং সোশাল মিডিয়া পোস্ট আমার নজরে এসেছে যেখানে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, কলকাতার ১৯ ডি সেভেন ট্যাঙ্কস রোড, পিন- ৭০০০৩০ ঠিকানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের নামে একটি যৌথ সম্পত্তি নথিভুক্ত রয়েছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে আরও জানান যে, সেই ভাইরাল হওয়া নথির পাশে রহস্যজনকভাবে কোনও বৈধ মোবাইল নম্বর দেওয়া নেই। এই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এবং ব্যঙ্গাত্মক সুরে তৃণমূল সাংসদ লেখেন, আমি জানি না ওই নথিতে থাকা ব্যক্তিটি কে, তবে এটুকু সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে একশো শতাংশ নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, ওটা আর কেউ হলেও নিশ্চিতভাবেই এই সায়নী ঘোষ নয়! নিজের রাজনৈতিক সততা ও পারিবারিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে সায়নী বলেন, আমি অত্যন্ত সাধারণ এক মধ্যবিত্ত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে লড়াই করে আজকের এই জায়গায় উঠে এসেছি। রাজনীতিকে আমি জনসেবার মাধ্যম হিসেবেই দেখি, পেশা বা উপার্জনের জায়গা হিসেবে নয়। রাজনীতি করে আজ পর্যন্ত কোনও উপরি আয় বা অপ্রত্যাশিত সুবিধা বা অনৈতিক লাভ আমি কোনওদিন করিনি এবং করার মানসিকতাও আমার নেই। মানুষ আমাকে ভালোবেসেছেন, আমার লড়াইকে সম্মান জানিয়েছেন এবং আমি সর্বদা তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
বিরোধীদের কুৎসা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণকে একহাত নিয়ে যাদবপুরের সাংসদ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর যাবতীয় আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির পরিমাণ অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং তা দেশের আইন মেনেই জনসমক্ষে রাখা হয়েছে। সায়নী ঘোষ তাঁর পোস্টে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলীর কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে যাঁরা জলঘোলা করছেন, তাঁদের জেনে রাখা উচিত যে আমার যা কিছু স্থাবর ও অস্তাবর সম্পত্তি রয়েছে, তার প্রতিটি পাইপয়সার নিখুঁত খতিয়ান নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা আছে। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি কোনও তথ্য গোপন করিনি। আমি আমার এলাকার ভোটারদের এবং বাংলার সমস্ত সাধারণ মানুষকে জানাতে চাই যে, যদি কারও মনে কোনও বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে, তবে আপনারা অনায়াসে সেই নির্বাচনী হলফনামার পাবলিক রেকর্ড চেক করে সত্যতা যাচাই করে দেখে নিতে পারেন। না জেনে বা প্রমাণ ছাড়া কারচুপি করা কোনও কাগজ দেখিয়ে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধ।
নিজের বক্তব্যের শেষ অংশে সায়নী ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে প্রতিপক্ষ ও কুৎসা রটনাকারীদের উদ্দেশ্যে এক চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরনের সস্তা অপকৌশল প্রয়োগ করে তাঁকে দমানো যাবে না বা ভয় দেখানো যাবে না। এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে তিনি কড়া ভাষায় লেখেন, বিনা কোনও তথ্যপ্রমাণে যাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সমাজমাধ্যমে আমার চরিত্রহনন করার এবং আমাকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাঁরা অবিলম্বে এই নোংরা খেলা বন্ধ করুন এবং এখনই থামুন! মনে রাখবেন, আমি রাজপথের লড়াই থেকে উঠে আসা মেয়ে, সহজে এক ইঞ্চিও রাজনৈতিক জমি আমি প্রতিপক্ষকে ছাড়ব না। এই জঘন্য মিথ্যাকে আমি এভাবে অনায়াসে পার পেয়ে যেতে দেব না। সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া খবর ছড়ানোর অপরাধে এবং আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টার বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই আইনি দলের সঙ্গে পরামর্শ করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন মেটার পরপরই যেভাবে দলের দুই প্রথম সারির তরুণ নেতার নাম জড়িয়ে যৌথ সম্পত্তির এই বিতর্ক সামনে আনা হল, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সায়নীর এই মারকুটে ও আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ‘এই ঘোষ ভয় পায় না’ বলে হুঙ্কার দেওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, তিনি আইনি ও রাজনৈতিক উভয় ময়দানেই এই লড়াইকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার, সায়নীর এই আইনি হুঁশিয়ারির পর জল কতদূর গড়ায় এবং বিরোধী শিবির এর জবাবে কী কৌশল অবলম্বন করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

