AB Live News
নিটকাণ্ডে ধৃত নাসিকের ডাক্তারের হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা উদ্ধার
জাতীয় স্তরের ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে নেমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের। নিট জালিয়াতি চক্রের জাল যে কতদূর বিস্তৃত, তা ধৃত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক শুভম খৈরনারের মোবাইল ফোন ঘেঁটে এবং তাঁর একাধিক হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা উদ্ধার করে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে তদন্তকারীদের কাছে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, মোটা টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের নিশ্চিত সাফল্যের টোপ দেওয়া হত এই চক্রের তরফ থেকে। শুধু পাস করানোই নয়, নিট পরীক্ষায় মোট ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার অবধারিত ‘গ্যারান্টি’ বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত পরীক্ষার্থীদের। আর এই বিপুল নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হত লাখ লাখ টাকা।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের নাসিকের বাসিন্দা ওই অভিযুক্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক শুভম খৈরনারের সঙ্গে গত এপ্রিল মাসে পুণের বাসিন্দা যশ যাদব নামের এক ব্যক্তির যোগাযোগ হয়। শুভম পুণের ওই যুবককে জানান যে, নিটের আসল প্রশ্নপত্রের একটি কপি তাঁর হাতে চলে এসেছে। প্রশ্নপত্রটি হস্তগত হওয়ার পর সেটিকে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সুকৌশলে বিলি করার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যশের ওপর। গোপন সূত্রের খবর, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায় গত ২৯ এপ্রিল।
চূড়ান্ত রফাদফা হয়ে যাওয়ার পর শুভম এবং তাঁর সঙ্গীরা অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁরা বিভিন্ন নিট পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে শুরু করেন। সিবিআইয়ের দাবি, ধৃত চিকিৎসক এবং তাঁর সহযোগীরা পরীক্ষার্থীদের এই বলে আশ্বস্ত করতেন যে, প্রশ্নপত্র মুখস্থ করে পরীক্ষা দিলে ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাওয়া কেউ আটকাতে পারবে না। আর এই বিপুল নম্বর থাকলে দেশের যে কোনও নামী সরকারি বা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে সহজেই ভর্তি হওয়া সম্ভব। নামী কলেজে ডাক্তারি পড়ার এই প্রলোভন দেখিয়ে এবং নিশ্চিত নম্বরের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে দফায় দফায় লাখ লাখ টাকা তুলেছিলেন শুভম ও তাঁর পুরো দলবল।
ইতিমধ্যেই শুভমের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, পুণের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে নিটের প্রশ্নপত্রটি প্রথমে ১০ লক্ষ টাকায় কিনেছিলেন শুভম। এরপর সেই প্রশ্নপত্রটিই তিনি আরও বেশি মুনাফা লাভের আশায় পরীক্ষার্থীদের কাছে মাথাপিছু ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন। এই বিশাল অঙ্কের টাকার একটা বড় অংশ কোন কোন প্রভাবশালীর পকেটে গিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা।
গত মঙ্গলবার নাটকীয়ভাবে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েন এই অভিযুক্ত চিকিৎসক। তদন্তকারীদের চোখ ফাঁকি দিতে এবং নিজের পরিচয় লুকাতে শুভম নিজের মাথার চুল এবং দাড়ি কেটে সম্পূর্ণ হুলিয়া বদলে ফেলেছিলেন। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির কাছে তাঁর সেই শেষরক্ষা হয়নি। সিবিআই আধিকারিকরা উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর পুরনো ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার মিল খুঁজে পান এবং নিখুঁতভাবে তাঁকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করেন।
বর্তমানে শুভমের সঙ্গে আর কার কার হোয়াট্সআপে বা অন্য কোনও মাধ্যমে কথা হয়েছিল, কাদের কাদের কাছে এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল এবং এই চক্রের আর্থিক লেনদেনের উৎস কোথায়, সেই সমস্ত ডিজিটাল তথ্য উদ্ধারের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালাচ্ছে সিবিআই। উদ্ধার হওয়া চ্যাট এবং বার্তাগুলি থেকে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হচ্ছে যে, শুভম খৈরনার আসলে একটি অত্যন্ত বড় এবং সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্রের সামান্য একটি অংশ মাত্র। এই চক্রের মূল মাথা বা ‘কিংপিন’ আসলে অন্য কেউ, যে পর্দার আড়াল থেকে গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। সেই মূল চক্রীর খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জোর কদমে তল্লাশি ও অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

