AB Live News
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩ হাজার, বাসে সফর নিখরচায়: ১ জুন থেকেই ধামাকা শুভেন্দু সরকারের
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পটপরিবর্তনের পর প্রথম কর্মদিবসেই কার্যত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরেই রাজ্যবাসীর জন্য সুখবরের ডালি সাজিয়ে বসলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে শুভেন্দু ঘোষণা করলেন, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যের মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর টাকা। কেবল আর্থিক সাহায্যই নয়, ১ জুন থেকে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে সরকারি বাসে যাতায়াত করতে মহিলাদের আর কোনও ভাড়াই গুনতে হবে না। অর্থাৎ, ক্ষমতায় এসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’-এর দুর্গে মোক্ষম আঘাত হানল গেরুয়া শিবির। নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্প রূপায়ণের মাধ্যমে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা কেবল প্রতিশ্রুতি দেয় না, তা পালনও করে।
২০২১ সালে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ফেরার হাতিয়ার হিসেবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করেছিলেন, যেখানে মাসিক ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হয়ে তা ধাপে ধাপে বেড়ে সাধারণ মহিলাদের জন্য ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের জন্য ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে বিজেপি তাদের ‘সংকল্প পত্রে’ ঘোষণা করেছিল, রাজ্যের মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে এবং মুদ্রাস্ফীতির বাজারে তাঁদের হাতে বাড়তি নগদ জোগাতে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আজ নবান্নের বৈঠক শেষে সেই প্রতিশ্রুতিকেই সিলমোহর দিল মন্ত্রিসভা। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় চলে আসবেন। অর্থাৎ, ৩ হাজার টাকা পেতে মহিলাদের আপাতত নতুন করে ফর্ম তোলা বা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করার কোনও প্রয়োজন নেই। বর্তমান তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করেই জুনের প্রথম দিন থেকে সরাসরি তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি ভবিষ্যতে বাড়তি কোনও নথির প্রয়োজন হয়, তবে তা সরকার থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ‘বিনামূল্যে বাস সফর’ প্রকল্পটিও বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের মডেলে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপি তাদের ইস্তেহারে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের প্রতি জনসভা থেকেই দাবি করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য সরকারি পরিবহণ হবে সম্পূর্ণ নিখরচায়। সোমবার নবান্নে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, ১ জুন থেকে সরকারি বাসে চড়লে কোনও মহিলার থেকে কন্ডাক্টর আর টিকিট চাইবেন না। সরকারি কোষাগারে এর ফলে বড়সড় চাপ পড়লেও, নারী ক্ষমতায়ন ও কর্মজীবী মহিলাদের যাতায়াতের খরচ কমাতে এই পদক্ষেপ ঐতিহাসিক বলে দাবি করছে শাসক পক্ষ।
রাজ্যে সরকার বদলানোর পর থেকেই আমজনতার মনে বড় প্রশ্ন ছিল— আগের সরকারের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ বা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলি কি বন্ধ হয়ে যাবে? শুভেন্দু অধিকারী এ দিন সেই আশঙ্কার মেঘ এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আগের সরকারের জনহিতকর কোনও প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না, বরং সেগুলির নাম পরিবর্তন ও মানোন্নয়ন করে আরও বেশি টাকা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এখন রূপান্তরিত হলো ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এ, যেখানে টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ বা তারও বেশি করা হয়েছে।
আজকের এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী সরকার প্রথম দিনেই প্রমাণ করে দিল যে তারা ‘ডবল ইঞ্জিন’ গতিতে কাজ করতে ইচ্ছুক। সোমবারের এই বৈঠকের পর আগামী সোমবার ফের মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, সেই বৈঠকে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান এবং কৃষি ঋণের মতো আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার ঘোষণা আসতে পারে। আপাতত ১ জুন দিনটিকে পাখির চোখ করে রাজ্যজুড়ে উৎসবের মেজাজ তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। ৩ হাজার টাকা এবং বিনামূল্যে বাস সফর— এই জোড়া উপহারে বাংলার অন্দরে নিজেদের পায়ের তলার মাটি আরও শক্ত করার কৌশলই নিলেন রাজ্যের নতুন ‘অধিনায়ক’ শুভেন্দু অধিকারী।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

