AB Live News
নীল-সাদা অতীত, গেরুয়া আভায় নবান্নে নতুন সূর্যোদয়: প্রথম বৈঠকেই মারকাটারি মেজাজে শুভেন্দু
পনেরো বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় যখন নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয় ঘটেছে, তখন তার প্রতিফলন কেবল সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নয়, ধরা পড়ল খোদ রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নের গায়েও। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে নবান্ন ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীল-সাদা থিমের সমার্থক, রবিবার সন্ধ্যা নামতেই সেই পরিচিত ছবি সম্পূর্ণ বদলে গেল। চিরচেনা নীল-সাদা আলোর মায়া কাটিয়ে নবান্ন ভবন এখন সেজে উঠেছে উজ্জ্বল গেরুয়া আলোকসজ্জায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আলোর পরিবর্তন নয়, বরং এটি বাংলার প্রশাসনিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের এক বলিষ্ঠ সংকেত। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম কর্মদিবস। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণের আগের রাতেই গেরুয়া আভায় সেজে উঠে নবান্ন যেন ঘোষণা করল— বাংলায় পরিবর্তনের পরিবর্তন আজ সম্পূর্ণ হল।
২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সংস্কারের দোহাই দিয়ে মহাকরণ থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে শিবপুরের এই গগনচুম্বী ভবনে প্রশাসনিক সদর দফতর সরিয়ে এনেছিলেন, তখন অনেকেই একে দেখেছিলেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দর্শনের আস্ফালন হিসেবে। বিজেপি অবশ্য শুরু থেকেই ঘোষণা করেছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্য পরিচালনা করবে ডালহৌসি পাড়ার সেই ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই। ইতিমধ্যেই মহাকরণ ভবনকেও গেরুয়া আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তবে মহাকরণের সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ভাবে নবান্ন থেকেই কাজ শুরু করছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। এই বৈঠকেই পাঁচ জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দফতর বণ্টন করে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বসবেন পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে। নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী হবে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স নীতি কীভাবে কার্যকর হবে, তার নীল নকশা আজই তৈরি করবেন শুভেন্দু।
সোমবারের এই মেগা বৈঠককে কেন্দ্র করে নবান্ন জুড়ে এখন নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয়। রবিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও নবান্নে ছিল সাজ সাজ রব। কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার অজয় নন্দ এবং হাওড়ার কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী ব্যক্তিগত ভাবে নবান্ন চত্বর পরিদর্শন করেন। নবান্ন সভাঘর থেকে শুরু করে করিডোর— সর্বত্র নিরাপত্তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা বলয় কেমন হবে এবং নবান্ন সভাঘরে যেখানে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক হবে, সেখানে প্রবেশাধিকার কার কার থাকবে, তা নিয়ে দুই কমিশনারের উপস্থিতিতে দীর্ঘ বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সহ রাজ্যের বিভিন্ন জ়োনের উচ্চপদস্থ আইপিএস আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে হবে যে রাজপাট এখন বদলে গিয়েছে।
নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, সোমবার কেবল দফতর বণ্টন নয়, রাজ্য পুলিশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের ফাইলও সই হতে পারে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী তিনটি পৃথক প্রশাসনিক বৈঠক করবেন যেখানে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিল্পায়নের রোডম্যাপ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। ১৫ বছর আগে মহাকরণের অলিন্দে যে লাল আলোর দাপট ছিল, যা পরে নীল-সাদায় রূপান্তরিত হয়েছিল, আজ তা উজ্জ্বল গেরুয়া আভায় ধুয়ে মুছে সাফ। রবিবার রাতের এই আলোকসজ্জা দেখার জন্য শিবপুর ও সংলগ্ন গঙ্গার ঘাটে বহু মানুষ ভিড় করেছিলেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা আর বিস্ময়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নবান্নকে গেরুয়া রঙে সাজানো মানে কোনও বিশেষ দলের প্রচার নয়, বরং এটি ভারতের ঐতিহ্য ও ত্যাগের রঙের প্রতি সম্মান। সোমবার সকাল থেকেই নবান্নের চোদ্দো তলায় শুরু হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়, যেখানে নীল-সাদা এখন কেবল একটি মলিন অতীত। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আজ নবান্ন থেকেই বাংলার নতুন ভাগ্যবিবর্তনের পালা শুরু হতে চলেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

