Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

বেআইনি মাদ্রাসায় কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ক্ষুদিরামের

0 609,236,805

 রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় রদবদলের পর দায়িত্ব পেয়েই পুরোদমে ‘অ্যাকশন মোডে’ অবতীর্ণ হলেন রানিবাঁধের বিধায়ক তথা নবনিযুক্ত মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। সোমবার কার্যভার গ্রহণ করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শিক্ষার নামে কোনও রকম বেআইনি কার্যকলাপ বা সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান চালানো বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে অনুমোদনহীন বা নিয়মবহির্ভূতভাবে চলা মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট (আদিবাসী উন্নয়ন), অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স (সংখ্যালঘু উন্নয়ন) এবং মাদ্রাসা এডুকেশন— এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বভার এখন তাঁর কাঁধে। আর দায়িত্ব পেয়েই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর এই শিক্ষক-মন্ত্রী।

পেশায় শিক্ষক ক্ষুদিরাম টুডু মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। তাঁর মতে, মাদ্রাসা শিক্ষা রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থারই একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজ্যের প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ মেনেই চলতে হবে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যাঁরা আইন মেনে এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকার তাঁদের সব রকম সহযোগিতা করবে। কিন্তু যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কোনও ধরনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি বা দেশবিরোধী কার্যকলাপের হদিস মেলে, তবে প্রশাসন বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না। মন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কিছু মাদ্রাসা সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। কোথাও নথিপত্রে কারচুপি করা হয়েছে, কোথাও আবার ছাত্রসংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিকাঠামো বা নিরাপত্তার ন্যূনতম মানদণ্ডও মানা হচ্ছে না। এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তদারকি এবং নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্যে জাল জাতিগত শংসাপত্র (Fake Caste Certificate) তৈরি করে প্রকৃত আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার হরণ করার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “ভুয়ো এসটি বা এসসি সার্টিফিকেট দেখিয়ে অযোগ্য কেউ যেন প্রকৃত পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রাপ্য সুবিধা কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই আমার অন্যতম লক্ষ্য। জাল শংসাপত্রের কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি মনে করেন, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের মূল কাজ হল সংরক্ষিত শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। সেখানে কোনও ধরনের জালিয়াতি হলে প্রকৃত বঞ্চিতরা আরও পিছিয়ে পড়বেন।

আদিবাসী উন্নয়নের প্রশ্নেও তিনি যথেষ্ট সংবেদনশীল। ক্ষুদিরামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের প্রধান কাজ হল প্রান্তিক আদিবাসী সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন এবং সর্বোপরি তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সার্বিক উন্নতি ঘটানো। অন্যদিকে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। নবনিযুক্ত মন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছয় এবং কোনও বেআইনি চক্র বা ভুয়ো নথির দাপটে সেই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া না হয়। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট রাখতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর এই কড়া পদক্ষেপ কতখানি কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper