AB Live News
“২৪ ঘণ্টায়ই ফ্লপ অভিযান! অগ্নিমিত্রার নির্দেশ উড়িয়ে নিউ মার্কেটে দেদার অবৈধ পার্কিং”
রাজনন্দিনী ঘোষ : অগ্নিমিত্রা পলের পরিদর্শনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বেহাল নিউ মার্কেট! নো-পার্কিং জোনে দেদার অবৈধ পার্কিং, প্রশ্নে প্রশাসনের কড়াকড়ি
কলকাতা, ২৭ জুলাই: নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল নিউ মার্কেট এলাকা পরিদর্শন করে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও, তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কার্যত আগের চেহারাতেই ফিরে গেল এলাকা। রবিবার দুপুরে নিউ মার্কেট, লিন্ডসে স্ট্রিট, সিমপার্ক মলের সামনে এবং জওহরলাল নেহরু রোডের বিভিন্ন অংশে নো-পার্কিং বোর্ডের সামনে সারি সারি গাড়ি ও মোটরবাইক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
শনিবার সন্ধ্যায় নিউ মার্কেট পরিদর্শনে এসে অগ্নিমিত্রা পল পুলিশের উপস্থিতিতেই বেআইনি পার্কিংয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রাখা হলে মালিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পার্কিং করলে ₹১,০০০ জরিমানা করা হবে।
রবিবারের চিত্র অবশ্য অন্য কথাই বলছে। লিন্ডসে স্ট্রিটে বহু ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরবাইক নো-পার্কিং বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এমনকি কয়েকটি গাড়িতে ‘Army’ এবং ‘Government of India’-র স্টিকারও ছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মন্ত্রীর নির্দেশের পরেও কেন অবাধে চলছে নিয়মভঙ্গ?
এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিদিনই দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেওয়ায় ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দোকানে ক্রেতাদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে অনেক গাড়ির মালিক উল্টে দুর্ব্যবহার করেন, এমনকি হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।
একটি পোশাকের দোকানের কর্মী বলেন,
“আমরা প্রায়ই গাড়ি সরানোর অনুরোধ করি। কিন্তু অনেকেই শুনতে চান না। বরং তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। দোকানের প্রবেশপথও আটকে যায়।”
শনিবারের পরিদর্শনে অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্টভাবে জানান, লিন্ডসে স্ট্রিটে একদিকে হকার, অন্যদিকে বেআইনি পার্কিং—এই দুই সমস্যার জেরে পথচারী ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন,
“লিন্ডসে স্ট্রিটে দু’পাশেই গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। তার সঙ্গে রয়েছে হকারদের দখল। নিজের ঝুঁকিতে গাড়ি রাখতেই পারেন, তবে নো-পার্কিং জোনে রাখলে ₹১,০০০ জরিমানা দিতে হবে।”
শুধু জরিমানার নির্দেশই নয়, এলাকায় আরও বেশি সংখ্যায় নো-পার্কিং বোর্ড বসানোরও নির্দেশ দেন মন্ত্রী। দক্ষিণ ট্রাফিক গার্ডের এক আধিকারিক জানান, মন্ত্রীর নির্দেশের পর নিউ মার্কেট সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় নতুন নো-পার্কিং বোর্ড ও সতর্কীকরণ ব্যানার লাগানো হয়েছে।
তবে বোর্ড বসানো হলেও বাস্তবে তার প্রভাব এখনও খুব একটা চোখে পড়েনি। লিন্ডসে স্ট্রিটের এক দোকানকর্মীর কথায়,
“নতুন বোর্ড লাগানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষ এখনও আগের মতোই গাড়ি রেখে চলে যাচ্ছেন।”
অন্যদিকে, হকারদের ক্ষেত্রেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পল। তিনি নির্দেশ দেন, সব হকারকে হলুদ দাগের মধ্যে থেকেই ব্যবসা করতে হবে এবং ফুটপাতের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
হকারদের দাবি, শনিবার রাতেই পুলিশ এসে তাঁদের সতর্ক করে যায়। বেন্টিঙ্ক ও বার্ট্রাম স্ট্রিটের এক ব্যাগ বিক্রেতা মোহাম্মদ আবজাল জানান,
“পুলিশ এসে বলে গেছে, হলুদ দাগের বাইরে দোকান বসানো যাবে না। সবাইকে সেই নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে।”
রাজ্য সরকারের স্ট্রিট ভেন্ডিং নীতিমালা অনুযায়ী, ফুটপাতের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অংশ পথচারীদের জন্য খালি রাখতে হবে। সেই নিয়ম কার্যকর করার দিকেও প্রশাসন নজর দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে রবিবারের পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট, শুধুমাত্র নির্দেশ বা সতর্কীকরণ বোর্ড বসালেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। নিয়মিত নজরদারি, কঠোর জরিমানা এবং ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান ছাড়া নিউ মার্কেটের দীর্ঘদিনের অবৈধ পার্কিং ও দখলদারির সমস্যা কাটানো কঠিন বলেই মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

