Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

কলমের উপর হামলার প্রতিবাদে রাজপথে সাংবাদিকদের শক্তি প্রদর্শন

0 1,932,963

নিজস্ব সংবাদদাতা, (কলকাতা)

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার রাজপথে নজিরবিহীন ঐক্যের ছবি দেখা গেল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক, চিত্র সাংবাদিক, ও সংবাদকর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। কলকাতা জার্নালিস্টস ফ্র্যাটার্নিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিল কলকাতা প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত যায়। যে স্থানে কয়েকদিন আগে ছাত্রদের বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, সেখানেই প্রতিবাদ কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদেরই হামলার মুখে পড়তে হয়, তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রশ্নের মুখে পড়ে। মিছিলজুড়ে “সাংবাদিকদের উপর হামলা বন্ধ কর”, “প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা কর” এবং “দোষীদের অবিলম্বে শাস্তি দাও”—সহ একাধিক স্লোগান শোনা যায়।

মিছিল শেষে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে আহত সাংবাদিকদের জন্য সুবিচার, ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং সেই অধিকার সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের। অন্যদিকে, তদন্তে গতি আনতে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ অভিযুক্তকে। তাদের মধ্যে খালেদ রেজা ও আফরোজ-সহ পাঁচজনকে সোমবার ডোরিনা ক্রসিংয়ে এনে ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন (Crime Scene Reconstruction) করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা প্রত্যেক অভিযুক্তকে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিল, কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিল এবং কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযুক্তদের বয়ান ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয় বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠনের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং কে কী ভূমিকা নিয়েছিল তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে অভিযুক্তদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখছেন। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের নাম ওয়াকার আজম (৩৫) এবং জাভেদ আখতার (৩২)। একজনকে করয়া এলাকা থেকে এবং অন্যজনকে নদিয়া জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই দুই গ্রেফতারের পর মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬।

পুলিশের দাবি, নবগ্রেফতার দুই ব্যক্তির কেউই ছাত্র নন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে তাঁদের কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাঁরা বামপন্থী সমর্থিত নিট (NEET) ইস্যুর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে যে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ছাত্র ছিলেন না। পুলিশের মতে, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাইরের লোক ছিলেন এবং কারও কারও বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধমূলক মামলার রেকর্ড রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পরিকল্পিতভাবে কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভে ঢুকে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন কি না। ঘটনার সূত্রপাত হয় শিয়ালদহ থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিক, পুলিশকর্মী এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের দিকে ইট-পাথর, জলের বোতল ও জুতো ছোড়া হয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে একাধিক সাংবাদিক আহত হন বলে অভিযোগ। কয়েকটি ক্যামেরা ও সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই বহু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। যাঁরা এখনও পলাতক, তাঁদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।তদন্তকারীরা এখন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, এই হিংসার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না। কোনও সংগঠিত চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভের মধ্যে ঢুকে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল কি না, অথবা এর পিছনে বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না—সেই বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও পুলিশ সূত্রের ইঙ্গিত। এদিকে, সাংবাদিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্র সংকুচিত হবে বলেও তাঁদের আশঙ্কা।

রাজনৈতিক মহলও এই ঘটনাকে ঘিরে সরব হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। ফলে এই ঘটনায় আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper