AB Live News
যন্তর মন্তরে রণক্ষেত্র! লাঠিচার্জ, রক্তাক্ত বিক্ষোভ—পিছু হটছে না CJP
রাজনন্দিনী ঘোষ : নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে চলা আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রবিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বহু আন্দোলনকারী আহত হন। একই সঙ্গে বিহারের অন্তত তিনটি জেলায় বিক্ষোভ ঘিরে পাথর ছোড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত। অসুস্থতার খবর জানিয়েও তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।”
পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে রবিবার দেশজুড়ে ক্যান্ডেল লাইট মার্চের ডাক দিয়েছে সিজেপি। দলের দাবি, আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি।
অন্যদিকে, বিহারে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে জন জনতা দল (JJD)-এর প্রধান তথা লালু প্রসাদ যাদবের বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদবকে।
রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে কেন্দ্রের উপর। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভা রদবদলের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।”
সিজেপি নেতা অশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আন্দোলনের প্রধান দাবি এখনও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। তিনি বলেন, সরকার যদি মন্ত্রীর পদত্যাগ না চায়, তাহলে তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। বারবার বৈঠক করে সময় নষ্ট করার কোনও অর্থ নেই।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন আনতে সরকার প্রস্তুত। সংসদের চলতি অধিবেশনেই নতুন সংশোধনী বিল আনা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্তদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ₹১০ কোটি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় বিএনএসএস ১৬৩ ধারা জারি করেছে। ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ওই এলাকায় না যাওয়ার এবং বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।
অসুস্থতা, পুলিশি কড়াকড়ি এবং সরকারের আশ্বাস—সবকিছুর মধ্যেও আন্দোলনকারীদের দাবি একটাই, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

