Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

দেশই ওর ধ্যানজ্ঞান’, ছেলের সাফল্যে চোখে জল দিলীপ-জননীর, শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানান দিলীপ-পত্নী রিঙ্কু মজুমদারও

0 598,123,148

 গ্রামের সেই দামাল ছেলেটি, যে মাত্র ২২ বছর বয়সে ঝোলা কাঁধে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল দেশসেবার ব্রত নিয়ে, আজ সে-ই বাংলার শাসনের অন্যতম কাণ্ডারি। শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক শপথ মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেদিনীপুরের মাটির সন্তান দিলীপ ঘোষ যখন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, তখন কয়েকশো মাইল দূরে ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ গৃহকোণে বসে টেলিভিশনের পর্দায় ঝাপসা চোখে সেই দৃশ্য দেখছিলেন তাঁর অশীতিপর মা পুষ্পলতা ঘোষ। রাজনীতির অলিন্দে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে আজ দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দিলীপ ঘোষের উত্থান কেবল একটি দলের জয় নয়, বরং কয়েক দশকের এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের সার্থকতা। ছেলের এই সাফল্যের দিনে মা পুষ্পলতা দেবী আবেগে ভাসলেও, সেই আবেগের পরতে পরতে মিশে ছিল এক যোদ্ধার জননীর গর্ব।

ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে দিলীপ ঘোষের যাত্রা শুরু। আশির দশকের উত্তাল সময়ে আরএসএস-এর প্রচারক হিসেবে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি। মা পুষ্পলতা দেবী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ও ছিল একরোখা আর জেদি। মানুষের জন্য কিছু করার নেশা ওকে ঘরছাড়া করেছিল। মাঝে মাঝে বাড়ি আসত ঠিকই, কিন্তু ওর মন পড়ে থাকত মানুষের মাঝেই।” নকশাল আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় থেকে শুরু করে বাম শাসনের অবসান এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই— দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক জীবন ছিল কন্টককীর্ণ। ২০১৬ সালে প্রথমবার খড়্গপুর সদর থেকে বিধায়ক হওয়া, তারপর দলের রাজ্য সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন এবং সাংসদ হিসেবে দিল্লি জয়— প্রতিটি ধাপেই পুষ্পলতা দেবী ছেলেকে দেখেছেন লড়াইয়ের ময়দানে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পরও যে মানুষটি দমে যাননি, বরং ২০২৬-এর বিধানসভায় ফের জিতে এসে আজ উপমুখ্যমন্ত্রীর মতো গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন, তাঁর প্রতি মায়ের আশীর্বাদ যেন আরও অটল হয়ে উঠল।
শনিবার দুপুরে ঝাড়গ্রামে মেয়ের বাড়িতে বসে টিভির পর্দায় শপথের দৃশ্য দেখার পর পুষ্পলতা দেবী ধরা গলায় বলেন, “ছেলে আজ বড় দায়িত্ব পেল। ও মন্ত্রী হওয়ার আগেও মানুষের জন্য কাজ করেছে, এখনও করবে। দেশই ওর প্রাণ, দেশই ওর ধ্যানজ্ঞান। আমার ছেলে যে কর্মের জন্য ঘর ছেড়েছিল, আজ সেই কর্ম পূর্ণ হওয়ার পথে। ও মানুষের পাশে থাকবে, এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।” কেবল মা নন, দিলীপ ঘোষের সাফল্যে তাঁর পরিবারের প্রতিটি সদস্য আজ গর্বিত। শপথ গ্রহণের পর কলকাতার রাজভবন চত্বরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাঁকে অভিনন্দন জানান দিলীপ-পত্নী রিঙ্কু মজুমদারও। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ে যে পারিবারিক ত্যাগের প্রয়োজন হয়, আজ সেই ত্যাগের দাম মেলাই যেন পরম প্রাপ্তি রিঙ্কু দেবীর কাছেও।
বিজেপির অন্দরে ‘অর্গানাইজার’ হিসেবে দিলীপ ঘোষের খ্যাতি সর্বজনবিদিত। রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ— চষে বেড়িয়েছেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই গ্রাম বাংলার নিভৃত কোণে পৌঁছেছিল পদ্ম শিবিরের বার্তা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় দিলীপ ঘোষের অন্তর্ভুক্তি এবং সম্ভাব্য উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ প্রাপ্তি আসলে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ও আদিবাসী সমাজের কাছে এক বড় বার্তা। ঝাড়গ্রামের কুলিয়ানা গ্রাম থেকে ব্রিগেডের শপথ মঞ্চ— এই দীর্ঘ পথযাত্রায় দিলীপ ঘোষ কেবল একজন নেতা হিসেবে নন, বরং এক হার-না-মানা মানসিকতার প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছেন। আজ যখন তিনি শপথ নিচ্ছিলেন, তখন ঝাড়গ্রাম আর মেদিনীপুরের অলিতে-গলিতে আবির খেলেছেন বিজেপি কর্মীরা। তবে সেই গগনবিদারী স্লোগানের মাঝেও এক জননীর নীরব অশ্রু আর নিঃশব্দ আশীর্বাদই যেন হয়ে উঠল আজকের শপথের সবথেকে বড় সত্য। নবান্নে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ‘শুভেন্দু-দিলীপ’ জুটি, যাদের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বাংলার মানুষ। আর গোপীবল্লভপুরের সেই মা প্রহর গুনছেন, কবে তাঁর ‘দিলু’ বাড়ি ফিরে একবেলা শান্তি করে পান্তাভাত খাবে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper