Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে ঝাঁঝরা করল দুষ্কৃতীরা

0 768,943,346

 খাস কলকাতায় ঢিলছোড়া দূরত্বে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মধ্যমগ্রাম। বুধবার রাতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করল একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। ভরসন্ধ্যায় জনবহুল এলাকায় এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। চন্দ্রনাথের সঙ্গে গাড়িতে থাকা তাঁর সহযোগী বুদ্ধদেব বেরাও গুলিতে বিদ্ধ হয়ে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

স্থানীয় এবং পুলিশি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাত নাগাদ। চন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব একটি চারচাকা গাড়িতে চড়ে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। ঘাতক বাহিনী আগে থেকেই ওত পেতে ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। চারটি বাইকে চড়ে আসা আটজন দুষ্কৃতী বেশ কিছুদূর পর্যন্ত তাঁদের গাড়িটিকে ধাওয়া করে। চন্দ্রনাথের গাড়িটি যখন দোহাড়িয়া লেনের সরু গলিতে প্রবেশ করার তোড়জোড় করছিল, ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে বাইক নিয়ে ধেয়ে আসে হেলমেট পরিহিত আততায়ীরা। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত এলাকা কেঁপে ওঠে আগ্নেয়াস্ত্রের গর্জনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত চার রাউন্ড এলোপাথারি গুলি চালানো হয়। কাঁচ ভেঙে সরাসরি চন্দ্রনাথের শরীরে গিয়ে লাগে বুলেটের আঘাত। রক্তে ভেসে যায় গাড়ির সিট।

ঘটনার বীভৎসতায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী তৎক্ষণাৎ দু’জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর শরীরে একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, বুদ্ধদেব বেরার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আততায়ীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অপারেশন চালিয়েছে। গাড়িটি কোন গলি দিয়ে ঢুকবে, সেই নির্দিষ্ট ‘টিপস’ আগে থেকেই দুষ্কৃতীদের কাছে ছিল বলে মনে করছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া থাকলেও হেলমেট ব্যবহারের কারণে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

উল্লেখ্য, নিহত চন্দ্রনাথ রথ আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও রাজনৈতিক ও কাজের প্রয়োজনে গত কয়েক বছর ধরে মধ্যমগ্রাম এলাকাতেই বসবাস করছিলেন। বিজেপি শিবিরের দাবি, চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মী ছিলেন। বিশেষ করে ভবানীপুর উপনির্বাচনের সময় শুভেন্দুর যে বিশেষ রণকৌশলগত ‘টিম’ কাজ করেছিল, চন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব দুজনেই ছিলেন তার অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই খুন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ‘টার্গেট কিলিং’-এর তত্ত্বটিই খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের খোঁজে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper