Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

স্ট্রংরুম ঘিরে সংঘাত তুঙ্গে

0 8,837,982,215

 ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হাই-ভোল্টেজ লড়াই মিটলেও উত্তাপ কমছে না বিন্দুমাত্র। বরং ৪ মে ভোট গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, শাসক এবং বিরোধী— উভয় শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধ ততই প্রকট হচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ চার ঘণ্টা অবস্থানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই বাড়তি সতর্ক হয়ে উঠেছেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গণনায় কারচুপি রুখতে এবং কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে শুক্রবার বিকেলেই অরফ্যানগঞ্জের দলীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রে যেখানে ইভিএম মেশিনগুলি কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে, সেখানে আচমকাই উপস্থিত হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে বসে থেকে তিনি স্ট্রংরুম ‘পাহারা’ দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মমতা হুঁশিয়ারি দেন যে, মানুষের দেওয়া গণতান্ত্রিক রায় যদি কেউ লুট করার চেষ্টা করে, তবে তিনি ‘জান দিয়ে’ লড়বেন। নেত্রীর এই অবস্থানের পরই তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়ে যায় এবং প্রতিটি স্ট্রংরুমের বাইরে কড়া নজরদারি শুরু হয়।

তবে মমতার এই পদক্ষেপকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ বিজেপি শিবির। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, স্ট্রংরুমে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও রকম ‘নিয়ম বহির্ভূত’ কাজ করতে পারেননি। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাস সারা ক্ষণ মমতাকে কড়া নজরদারিতে রেখেছিলেন এবং তাঁকে কোনও বাড়তি সুবিধা নিতে দেওয়া হয়নি। শুভেন্দু মনে করেন, নিজের পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এখন মরিয়া হয়ে স্ট্রংরুম পাহারার নামে নাটক করছেন।

শুক্রবার বিকেলের কর্মসূচি নিয়ে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, লড়াই এবার মাঠ থেকে সরে আসছে গণনাকেন্দ্রের টেবিলে। বিকেল ৫টা নাগাদ শুভেন্দু অধিকারী নিজে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে যাবেন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। সেখান থেকে তাঁর নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ারও কথা রয়েছে। এরপর অরফ্যানগঞ্জের দলীয় কার্যালয়ে তিনি ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার প্রতিটি স্তরের নেতা ও কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় হবে গণনাকেন্দ্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির পর বিজেপি কর্মীরা যাতে কোনওভাবেই হীনম্মন্যতায় না ভোগেন এবং প্রতিটি রাউন্ডের গণনায় যাতে কড়া নজর রাখা হয়, সেই নির্দেশই দেবেন শুভেন্দু।

এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি সবথেকে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। গত বছর নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করার পর এবার খাস কলকাতায় তাঁর নিজের গড়ে লড়াই করতে নেমেছেন শুভেন্দু। ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয়ে যাওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন— শুভেন্দু কি পারবেন নন্দীগ্রামের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে? এদিকে বুথফেরত সমীক্ষাগুলি বিজেপির পক্ষে যাওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, বিজেপি টাকা দিয়ে এই ধরনের সমীক্ষা করাচ্ছে। পাল্টা সতর্কবার্তা হিসেবে তিনি দলের প্রার্থীদের গণনাকেন্দ্রের সামনে রাত জাগার নির্দেশ দিয়েছেন। পাল্টাপাল্টি এই ‘স্ট্রংরুম পাহারা’ এবং শুভেন্দুর এই জরুরি বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ৪ মে ভবানীপুরের ফলাফল ঘিরে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। আপাতত দুই সেনাপতির নজরই এখন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের লোহার ফটকের ওপারে রাখা ওই জাদুবাক্সগুলির দিকে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper