Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

অতীতের ফেরে কোহলি

0 3,419,082,213

রূপসা দাস: বাইশ গজে তিনি যখন ব্যাট হাতে নামেন, তখন বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়াটাই তাঁর দস্তুর। কিন্তু মাঠের সেই দাপুটে বিরাটের ব্যক্তিগত জীবন যে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মুহূর্তের মধ্যে কাটাছেঁড়ার বিষয় হয়ে উঠবে, তা বোধহয় স্বয়ং ‘কিং কোহলি’ও কল্পনা করেননি। সম্প্রতি একটি সাধারণ ‘লাইক’কে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তাতে শুধু বিরাট নন, নাম জড়িয়েছে তাঁর এক যুগ আগের এক ‘প্রাক্তন’ বান্ধবীরও। আর সেই পুরনো কাসুন্দি ঘাটতেই এবার চরম বিরক্তি ও ক্ষোভ উগরে দিলেন ব্রাজিলিয়ান মডেল তথা অভিনেত্রী ইজাবেল লেইট। বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল হওয়া ইনস্টাগ্রাম পোস্টকে কেন্দ্র করে, যেখানে বিরাটের নারীসঙ্গ ও তাঁর রুচি নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক তুলনা টানা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বেশ চমকপ্রদ। সম্প্রতি কোহলি সোশ্যাল মিডিয়ায় জার্মান ইনফ্লুয়েন্সার জেনিফার বা লিজলাজের একটি ছবিতে লাইক দিয়েছিলেন। ব্যাস, সেটুকুই ছিল যথেষ্ঠ। মুহূর্তের মধ্যে নেটপাড়ার স্বঘোষিত গোয়েন্দারা বিরাটের ‘মহিলাপ্রীতি’র তত্ত্ব নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েন। তৈরি হতে থাকে একের পর এক কুরুচিকর মিম। কিন্তু জল ঘোলা হয় তখন, যখন একটি জনপ্রিয় পেজ থেকে একটি কোলাজ ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে বিরাটের বর্তমান স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার পাশাপাশি রাখা হয় ব্রাজিলিয়ান সুন্দরী ইজাবেল লেইট, অবনীত কৌর এবং ওই জার্মান সুন্দরীর ছবি। সেই পোস্টের ক্যাপশনে বিরাটের পছন্দকে ‘অভিজাত’ তকমা দিয়ে দাবি করা হয় যে, মাঠের রান তাড়া করার মতোই ব্যক্তিগত জীবনেও বিরাট কেবল ‘আইকন’ বা সেরাদেরই বেছে নেন। এই তুলনাটি কেবল বিরাটের রুচি নিয়ে খোঁচা দেয়নি, বরং তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নারীদের একপ্রকার ‘পণ্য’ বা ‘অ্যাচিভমেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছে।

এই পোস্টটি নজরে আসতেই আর নিজেকে সামলাতে পারেননি বিরাটের এক সময়ের চর্চিত বান্ধবী ইজাবেল লেইট। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যাঁর সঙ্গে বিরাটের সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল তুঙ্গে, সেই ইজাবেল সরাসরি ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সপাটে লেখেন, ‘১২ বছর পার হয়ে গিয়েছে। তবুও কেন মানুষ এই বিষয়গুলো নিয়ে এগোতে পারছে না?’ ইজাবেলের এই একটি মন্তব্যই বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এক যুগ আগের একটি অধ্যায়কে বারবার টেনে আনা তাঁর কাছে কতটা যন্ত্রণাদায়ক এবং বিরক্তির। বর্তমানে ইজাবেল নিজের জীবনে থিতু হয়েছেন। তিনি এখন দুই সন্তানের মা, স্বামী ও সংসার নিয়ে দোহায় সুখে জীবন কাটাচ্ছেন। অভিনয়ের জগত থেকেও তিনি পরিচিত নাম। হিন্দি ছবি ‘পুরানি জিন্স’ থেকে শুরু করে দক্ষিণী সিনেমা— সর্বত্রই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর পরিচয়কে বারবার কেবল বিরাটের ‘প্রাক্তন’ হিসেবে আটকে রাখাটা যে আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়া কালচারের এক অন্ধকার দিক, তা নিয়ে সরব হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশও।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই কদর্য অভ্যাসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। অনেকেই ইজাবেলের সমর্থনে বলেছেন যে, বিরাটের বর্তমান সুখী গৃহকোণ এবং অনুষ্কা-ভামিকা-অকায়কে নিয়ে তাঁর জীবনের স্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার পুরনো চ্যাপ্টার খোলা হয়? এক নেটিজেনের ভাষায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়া এখন সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা অতীতকে এভাবে জনসমক্ষে নিলামে তোলাটা এক ধরণের মানসিক বিকৃতি।’ শুধু কোহলি ভক্তরাই নন, সাধারণ মানুষও এই ধরণের ‘প্যাটার্ন খোঁজা’ বা ‘অভিজাত পছন্দের’ তকমা দেওয়ার বিরোধী। প্রশ্ন উঠছে, একজন বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটারের সাধারণ একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটিকে কেন অবমাননাকর ব্যক্তিগত সম্পর্কের মোড়কে মুড়িয়ে দেওয়া হবে? বিরাটের ‘লাইক’ জেনিফারকে রাতারাতি প্রচারের আলোয় নিয়ে এলেও, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ইজাবেলের মতো একজন স্বাধীন নারীর সম্মান যেভাবে বারবার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে, তা ধিক্কারজনক। এই বিতর্ক আবারও প্রমাণ করে দিল যে, ডিজিটাল দুনিয়ায় মানুষের গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত সম্মানের অধিকার কতটা ভঙ্গুর। এক যুগেরও বেশি সময় আগে শেষ হয়ে যাওয়া এক সম্পর্কের বোঝা ইজাবেলকে আর কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল যুগের এই ‘লাইক’ কালচার শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper