AB Live News
নেতাজিকে ‘জাতীয় পুত্র’ ঘোষণার আবেদন খারিজ, সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসিত মামলাকারী
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবদান অনস্বীকার্য, কিন্তু সেই আবেগকে হাতিয়ার করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করলে যে রেহাই মিলবে না, তা আজ স্পষ্ট করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘রাষ্ট্রপুত্র’ বা ‘জাতীয় পুত্র’ (Son of the Nation) হিসেবে ঘোষণা করা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠার দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন শোনা তো দূর অস্ত, মামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করে আবেদনটি পত্রপাঠ খারিজ করে দিল বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু মামলা খারিজ করাই নয়, আবেদনকারী পিনাকপানি মোহান্তিকে রীতিমতো নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়ে আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরণের ভিত্তিহীন মামলা করলে তাঁর সুপ্রিম কোর্টে ঢোকাই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আদালত কক্ষে শুনানির শুরুতেই আবেদনকারী তাঁর যুক্তিতে দাবি করেন, ১৯৪৭ সালের অনেক আগেই ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর নেতাজির নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতের স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। তাই সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে মর্যাদা দিয়ে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা উচিত। পাশাপাশি তাঁর দাবি ছিল, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনকেও জাতীয় ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তাঁকে সরকারিভাবে ‘জাতীয় পুত্র’ সম্মান দিতে হবে। আবেদনকারীর এই সওয়াল শুনেই অত্যন্ত বিরক্ত হন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তোলে, এই ধরণের সংবেদনশীল বিষয়কে কেন আদালতের আঙিনায় টেনে আনা হচ্ছে? বিচারপতিরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, নেতাজির মতো মহান ব্যক্তিত্বকে কোনো নির্দিষ্ট তকমা দিয়ে বা আদালতের রায়ের মাধ্যমে সম্মান জানানোর প্রয়োজন নেই, তিনি দেশবাসীর হৃদয়ে এমনিতেই অমর। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মামলাটি জনস্বার্থ নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
বিচারপতি সূর্য কান্ত কড়া সুরে বলেন, “আপনি কি জনস্বার্থ মামলার নামে সস্তার জনপ্রিয়তা বা পাবলিসিটি খুঁজছেন? পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন এখন পাবলিসিটি ইন্টারেস্ট লিটিগেশনে পরিণত হয়েছে। এই ধরণের আবেদন আমরা কোনোভাবেই গ্রাহ্য করব না।” আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য মামলাকারীকে সতর্ক করে দিয়ে বেঞ্চ আরও জানায় যে, আদালতের গরিমা রক্ষা করা আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। যদি এর পরেও একই ধরণের অন্তঃসারশূন্য পিটিশন দাখিল করা হয়, তবে আবেদনকারীর সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগকেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনো জনস্বার্থ মামলা ফাইল করতে চাইলে তা যেন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্ক্রুটিনি করা হয় এবং যথাযথ কারণ ছাড়া গ্রহণ না করা হয়। বিচারকদের মতে, ইতিহাস বা দেশপ্রেমের আবেগ নিয়ে বিচারবিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করার এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আইন আইনের পথেই চলবে, সেখানে আবেগের স্থান থাকলেও অযৌক্তিক দাবির কোনো জায়গা নেই। এই রায়ের ফলে এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আদালতের মঞ্চকে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আজকের এই নির্দেশের পর দিল্লির আইনি মহলে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই নেতাজি অনুরাগীদের একাংশের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে বিচারবিভাগ তার অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়ে দিয়েছে, ইতিহাসের বিচার আদালত কক্ষে নয়, ইতিহাসের পাতাতেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

