AB Live News
চার ম্যাচ আগেই বুন্দেশলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন
জার্মান ফুটবলে আবারও আধিপত্যের মুকুট জিতল বায়ার্ন মিউনিখ। ভিএফবি স্টুটগার্টকে ৪-২ চূর্ণ করে চার ম্যাচ বাকি থাকতেই বুন্দেশলিগায় চ্যাম্পিয়ন হ্যারি কেনরা। এই নিয়ে ৩৫তম শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে তারা। রবিবার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শুরুটা যদিও তাদের পক্ষে ছিল না। ২১ মিনিটে ক্রিস ফ্যুরিখ গোলে করে এগিয়ে দেন স্টুটগার্টকে। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল গ্যালারি। কিন্তু বড়ো দলের বৈশিষ্ট্যই হল দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো। সেটাই করে দেখায় বায়ার্ন।
মাত্র ছয় মিনিটের ঝড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় তারা। ৩১ মিনিটে রাফায়েল গুয়েরেইরো সমতা ফেরান। এরপর দ্রুতই গোল করেন নিকোলাস জ্যাকসন এবং আলফোনসো ডেভিস। তিন গোল কার্যত স্টুটগার্টের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে এসে দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন ইংলিশ ফুটবলার কেন। তিনি চলতি মরসুমে অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন। শেষদিকে স্টুটগার্ট একটি গোল শোধ করলেও ম্যাচে ফেরার সুযোগ আর তৈরি করতে পারেনি।এদিন জয়ের ফলে ৩০ ম্যাচে বায়ার্নের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৭৯। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সংগ্রহ ৬৪ পয়েন্ট। ফলে শেষ চার ম্যাচে সবগুলো জিতলেও ডর্টমুন্ড আর বায়ার্নকে টপকাতে পারবে না। গাণিতিক হিসাবেই তাদের জন্য নিশ্চিত হয়ে গেছে শিরোপা।
চলতি মরসুমে বায়ার্নের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় বিধ্বংসী। এখন পর্যন্ত তারা হেরেছে মাত্র একটি ম্যাচ, ড্র করেছে চারটি। আক্রমণ ভাগে ধার এতটাই তীক্ষ্ণ ছিল, তারা ১০৯ গোল করে ফেলেছে। যা লিগ ইতিহাসে অন্যতম সেরা রেকর্ড। কেন, মাইকেল অলিসে এবং লুইস দিয়াজের ত্রয়ী আক্রমণভাগে এক অনন্য সমন্বয় গড়ে তুলেছে। শুধু কেনই লিগে ৩০-এর বেশি গোল করেছেন। যা তাঁকে ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে। রক্ষণভাগেও সমান শক্তিশালী ছিল বায়ার্ন। পুরো মরসুমে তারা গোল হজম করেছে তুলনামূলক ভাবে খুবই কম। গত মরসুমে বায়ার লেভারকুসেন চমক দেখিয়ে শিরোপা জিতেছিল। অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু এই মরসুমে বায়ার্ন আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করল। এখন তাদের সামনে আরও বড়ো চ্যালেঞ্জ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে এবং জার্মান কাপেও লড়াইয়ে রয়েছে। ফলে এই মরসুমে ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্নও উঁকি দিচ্ছে। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে দলটি যে ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে, তা সমর্থকদের বড়ো আশা দেখাচ্ছে। ম্যাচ শেষে হ্যারি বলেন, ‘আমি ১০০ গোল করতে পারি, কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ বা বিশ্বকাপ না জিতলে ব্যালন ডি’অর পাওয়া কঠিন।’ যদি বায়ার্নকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে পারেন এবং আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে অবদান রাখতে পারেন, তবে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতার শক্ত দাবিদার হবেন তিনি। ২০১৩ এবং ২০২০ সালের পর ২০২৬ সালে এসে বায়ার্নের সামনে তৃতীয়বারের মতো ‘ট্রেবল’ (লিগ, কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ) জয়ের সুযোগ। জার্মানি কাপের সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ লেভারকুসেন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির প্রথম বছরটি ছিল শেখার, আর দ্বিতীয় বছরে এসে তাঁর দর্শন খেলোয়াড়দের রক্তে মিশে গেছে। এক ফুটবলার জানান, ‘আমরা এখন কোম্পানির পরিকল্পনাগুলো খুব নিখুঁতভাবে বুঝতে পারি। গত বছরের চেয়ে আমরা এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।’
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

