Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

বাসে উঠলেই পুরুষরা যৌনাঙ্গ ঠেকায়!’ গণপরিবহনে নারীদের বিভীষিকা নিয়ে স্বস্তিকার বিস্ফোরক বয়ান

0 4,098,807

রুচিরা রায়: তিনি বরাবরই ঠোঁটকাটা, স্পষ্টবক্তা। পর্দার অভিনয় হোক বা বাস্তবের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ— স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় মানেই এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। এবার টলিউডের এই ‘গ্ল্যামার কুইন’ সরাসরি আঘাত হানলেন সমাজের এক অতি পরিচিত অথচ ‘ট্যাবু’ হয়ে থাকা অন্ধকার দিকে। বাসে-ট্রেনে যাতায়াতকারী সাধারণ নারীদের নিত্যদিনের লাঞ্ছনা, শ্লীলতাহানি এবং পুরুষদের বিকৃত মানসিকতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত তোলপাড় ফেলে দিলেন অভিনেত্রী।

নিজের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা তুলে ধরেছেন এক হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা, যা বাংলার হাজার হাজার নারী প্রতিদিন মুখ বুজে সহ্য করেন। অভিনেত্রীর কথায়, “বাসে উঠলেই একদল পুরুষ যেন ওত পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই তাঁরা নিজেদের যৌনাঙ্গ নারীদের শরীরে ঠেকানোর চেষ্টা করে।” স্বস্তিকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এই পুরুষদের দূর থেকে দেখলে অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত এবং শিক্ষিত মনে হয়। হয়তো তাঁদের বাড়িতেও মা-বোন বা স্ত্রী আছেন। কিন্তু জনাকীর্ণ বাসে বা ভিড়ের সুযোগ পেলেই তাঁদের আসল চেহারাটা বেরিয়ে পড়ে। স্বস্তিকার কথায়, “পুরুষরা দূর থেকেই ভালো, কাছে এলেই মোহভঙ্গ হয়।”

গণপরিবহনে নারীদের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির শিকার হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু একজন প্রথম সারির অভিনেত্রী যখন এই বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলেন, তখন তা ভিন্ন মাত্রা পায়। স্বস্তিকা জানিয়েছেন, অনেক সময় ভিড়ের অজুহাতে পুরুষরা ইচ্ছে করে গায়ে পড়ে, শরীরের সংবেদনশীল অংশে হাত দেয়। সেই সময় প্রতিবাদ করলে উল্টে ওই নারীকেই কথা শুনতে হয় কিংবা বিষয়টি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিনেত্রীর এই বয়ান আসলে সেই কোটি কোটি মেয়ের যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি, যাঁরা প্রতিবাদ করতে ভয় পান বা লোকলজ্জার ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন।

স্বস্তিকার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ইন্টারনেটে আলোচনার আগুন লেগেছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ অভিনেত্রীর সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। বহু নারী নিজেদের ব্যক্তিগত বিভীষিকার কথা কমেন্ট বক্সে শেয়ার করতে শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, স্বস্তিকা যা বলেছেন তা তিলমাত্র অতিরঞ্জিত নয়, বরং কঠোর বাস্তব। অন্যদিকে, পুরুষদের একটি ক্ষুদ্র অংশ এই মন্তব্যকে ‘সব পুরুষকে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করানো’ বলে দাবি করে অভিনেত্রীর সমালোচনা করেছেন। তবে স্বস্তিকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি নির্দিষ্ট এক ধরণের বিকৃত মানসিকতার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন।

কেবল অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি স্বস্তিকা। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। গণপরিবহনকে নারীদের জন্য নিরাপদ করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাসে বা ট্রেনে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, সিভিল ড্রেসে মহিলা পুলিশ মোতায়েন এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির দাবিও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের এই ‘মুখ খোলা’ কি আমাদের সমাজের পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারবে? নাকি কয়েকদিন আলোচনার পর ফের চাপা পড়ে যাবে সেই ‘অদৃশ্য ছোঁয়া’র যন্ত্রণা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ার অন্দরমহল থেকে আমজনতার মনে। তবে স্বস্তিকা বুঝিয়ে দিলেন, প্রতিবাদের নাম যদি বিতর্ক হয়, তবে তিনি সেই বিতর্কে জড়াতে পিছপা নন।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper