Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ভাতার প্রচারে বিভ্রাট! সিঁথিতে সিঁদুর, তবু পোস্টারে ‘বিধবা’ সাজাল বিজেপি! তুঙ্গে বিতর্ক

0 175,645,680

 বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় প্রকল্প বনাম প্রতিশ্রুতির লড়াই এখন তুঙ্গে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে বিজেপি যখন বিধবা ভাতার অনুদান বৃদ্ধির বড়সড় ঘোষণা করছে, ঠিক তখনই এক ‘ভয়ঙ্কর’ পোস্টার বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গেল রাজ্য রাজনীতি। বিধবা ভাতার বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে সিঁদুর পরিহিত এক সধবা মহিলার ছবি! এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হুগলির চুঁচুড়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। তৃণমূলের দাবি, সধবা ও বিধবার তফাৎ বোঝে না গেরুয়া শিবির। পাল্টা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিধবা ভাতার পরিমাণ প্রতি মাসে ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা হবে—এই মর্মে একটি সঙ্কল্প পত্র বা পোস্টার প্রকাশ করে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। সম্প্রতি সেই প্রচারের একটি ডিজিটাল পোস্টার নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পের বিবরণের ঠিক পাশেই হাস্যোজ্জ্বল এক মহিলার ছবি, যাঁর সিঁথিতে জ্বলজ্বল করছে টকটকে লাল সিঁদুর। সধবা মহিলার এই ছবি বিধবা ভাতার প্রচারে ব্যবহার করায় মুহূর্তেই বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

পোস্টারটি প্রথম নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ফাঁস করেন চুঁচুড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা জোরালো বক্তা দেবাংশু ভট্টাচার্য। পোস্টারের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি তীব্র কটাক্ষের সুরে লেখেন,

“বিজেপি প্রমাণ করে দিল যে তারা বিধবা আর সধবার তফাৎটুকুও বোঝে না। সধবা মহিলার ছবি দিয়ে বিধবা ভাতার প্রচার আসলে বাংলার মায়েদের সরাসরি অপমান। যাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁকেও মানসিকভাবে আঘাত করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত কুরুচিকর।”

দেবাংশুর এই পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয় এবং ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা বিজেপিকে ‘নারী বিরোধী’ তকমা দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন।

তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বও এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন। দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রুমা রায় পাল রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,

“যাঁরা এতদিন এই ভাতার বিরোধিতা করত, আজ তাঁরাই ভোট কিনতে ভাতার লোভ দেখাচ্ছে। কিন্তু প্রচারের নামে জ্যান্ত মানুষের সিঁদুর মুছিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? এর মানে কী বিজেপি ক্ষমতায় এলে পুরুষদের মেরে ফেলবে? তবেই কি তারা ভাতা দেবে? বাংলার মা-বোনেদের এই অপমান সহ্য করা হবে না।”

একই সুরে তৃণমূল নেতা পীযূষ ধর বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোর কপি করতে গিয়ে বিজেপি তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। তাড়াহুড়ো করে ভোট বৈতরণী পার হতে গিয়ে তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।

পুরো ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়লেও অভিযোগ একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ। তাঁর দাবি, এই ধরণের কোনো পোস্টার দলের তরফে প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন,

“রাজ্য থেকে কোনো ডিজিটাল কন্টেন্ট বা পোস্টার এলে তা আমাদের কাছে পৌঁছায়। এমন কোনো পোস্টার আমার নজরে পড়েনি। আমার মনে হচ্ছে এটি তৃণমূলেরই কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতে তারা নিজেরাই বিজেপির লোগো ব্যবহার করে এমন বিকৃত পোস্টার বানিয়ে ভাইরাল করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, মহিলাদের সম্মান রক্ষার্থে বিজেপি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ভাতার পরিমাণ বাড়ানো তাদের একটি আন্তরিক প্রতিশ্রুতি। তাই সেখানে এমন ভুল হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের সাফল্যের পর মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। সেই লক্ষ্যেই বিধবা ভাতা তিনগুণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ‘পোস্টার বিতর্ক’ বিজেপির সেই অস্ত্রকেই উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। সিঁদুর এবং সধবা-বিধবা সম্পর্কিত ভাবাবেগ বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। নির্বাচনের মুখে এই ভুল বা ‘ষড়যন্ত্র’ (যদি সত্যি হয়) তৃণমূলের হাতে নতুন অক্সিজেন তুলে দিল।

এখন দেখার, এই সিঁদুর-বিতর্কের জল কতদূর গড়ায় এবং নির্বাচন কমিশনের দরজায় এই পোস্টার-যুদ্ধ পৌঁছায় কি না।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper