Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

তিলোত্তমার রাজপথে রাতের বিভীষিকা: চলন্ত ট্যাক্সিতে মহিলা যাত্রীকে লুঠ!

0 175,654,363

আলো ঝলমলে তিলোত্তমার রাতের নিরাপত্তা কি তবে শুধুই মায়া? রাতের কলকাতায় ফের একবার চলন্ত ট্যাক্সিতে ভয়াবহ ছিনতাইয়ের শিকার হলেন এক মহিলা যাত্রী। প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাঁর সর্বস্ব লুঠ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ট্যাক্সিচালক ও তার সহোদরের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় থানার তৎপরতায় জালে ধরা পড়েছে মূল অভিযুক্ত চালক ও তার ভাই। এই ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা এবং রাতের যানবাহনে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত মহিলা গত রাতে কাজের শেষে বাড়ি ফেরার জন্য কলকাতার একটি ব্যস্ত মোড় থেকে হলুদ ট্যাক্সি ধরেন। গন্তব্যের দিকে কিছুদূর যাওয়ার পরেই ট্যাক্সিচালক নির্জন রাস্তার সুযোগ নিয়ে গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়। আচমকাই চালকের পাশে বসে থাকা তার সহযোগী (যে সম্পর্কে চালকের নিজের ভাই) পিছনের সিটে মহিলার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র ও ভয় দেখিয়ে মহিলার গলার হার, কানের দুল এবং ব্যাগে থাকা কয়েক হাজার নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

বিপদ বুঝে মহিলা চিৎকার করার চেষ্টা করলেও রাতের নির্জন রাস্তায় তাঁর আর্তনাদ পৌঁছায়নি কারও কানে। সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার পর শহরের এক প্রান্তে তাঁকে ট্যাক্সি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় অপরাধীরা।

রাস্তার ধারের টহলদারি ভ্যানের সহায়তায় আক্রান্ত মহিলা দ্রুত স্থানীয় থানায় পৌঁছান এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই ‘ডাকাতি’র মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। শহরের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ট্যাক্সির নম্বর ট্র্যাক করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে চালক ও তার ভাই।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা পেশাদার অপরাধী দলের সঙ্গে যুক্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের কাছ থেকে লুঠ হওয়া গয়নার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্যাক্সির রেজিস্ট্রেশন ও চালকের লাইসেন্স জাল কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আক্রান্ত মহিলা পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, “ট্যাক্সিতে ওঠার সময় ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি চালক এমন কাজ করতে পারে। ওরা আমাকে মারধরের হুমকি দিচ্ছিল। বারবার ভাবছিলাম, আমার সন্তান বোধহয় আর মাকে দেখতে পাবে না।” বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হলেও পুলিশি তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতার সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠছে, ১. ট্যাক্সি বা অ্যাপ-ক্যাব চালকদের চারিত্রিক শংসাপত্র কি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়?

২. কেন সমস্ত বাণিজ্যিক গাড়িতে বাধ্যতামূলক ট্র্যাকিং সিস্টেম কার্যকর হচ্ছে না?

৩. কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও কেন অধিকাংশ ট্যাক্সিতে প্যানিক বাটন কাজ করে না?

৪. নির্জন রাস্তাগুলোতে পুলিশের টহল কি পর্যাপ্ত?

৫. অচেনা চালকের পাশে অন্য কাউকে বসে থাকতে দেখলে যাত্রীদের করণীয় কী?

কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, “এই ধরনের জঘন্য অপরাধ আমরা বরদাস্ত করব না। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই আমরা শহরের সমস্ত ট্যাক্সি ও ক্যাব সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসছি।” পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে রাতের নাকা তল্লাশি আরও বাড়ানো হবে এবং চালকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল জারি করা হবে।

শহরবাসীর একাংশের মতে, পুলিশ দ্রুত কাজ করে অভিযুক্তদের ধরে ফেলায় প্রশাসনের ওপর কিছুটা আস্থা ফিরলেও, মনস্তাত্ত্বিক ভয় কাটতে সময় লাগবে। রাতের শহরকে সত্যিই নিরাপদ করতে হলে নজরদারি ও প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় জরুরি— এই দাবিই এখন তুঙ্গে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper