Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ক্ষমা চাইলেন মোদী, লক্ষ্য বিরোধীরা

0 67,439,143

 “দেশের কোটি কোটি মা-বোন-কন্যাদের কাছে আমি মাথা নত করে ক্ষমা চাইছি। অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও আপনাদের প্রাপ্য অধিকার আমি ছিনিয়ে আনতে পারলাম না।”— শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে এভাবেই কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পতন হওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম প্রতিক্রিয়া। কিন্তু এই ক্ষমা প্রার্থনার আড়ালে ছিল বিরোধীদের প্রতি তীব্র শ্লেষ ও রাজনৈতিক আক্রমণের শাণিত তলোয়ার। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “একজন নারী অনেক বঞ্চনা সহ্য করতে পারেন, কিন্তু নিজের অধিকার হরণের এই অপমান তিনি কখনও ভুলবেন না। বিরোধীদের এই পাপের বিচার করবে দেশের সাধারণ মানুষ।”

শুক্রবার সংসদের নিম্নকক্ষে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়। বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও, বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয় সরকার পক্ষ। এই বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করা হোক এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু বিরোধীদের দাবি ছিল, আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের জটিলতায় না গিয়ে বর্তমান আসনেই সংরক্ষণ চালু করতে হবে। এই টানাপড়েনের জেরে বিলটি ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন মোদী। তিনি সরাসরি কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টিকে ‘নারীশক্তি বিরোধী’ ও ‘পরিবারতান্ত্রিক’ তকমা দিয়ে আক্রমণ শানান।

নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এক নজিরবিহীন উপমা ব্যবহার করে বলেন, “সৎ চেষ্টার ভ্রূণহত্যা করল কংগ্রেস ও তাদের সঙ্গী দলগুলো। নারীদের রাজনৈতিক উত্থান হলে এই পরিবারতান্ত্রিক দলগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে, সেই ভয় থেকেই তারা পর্দার আড়ালে ষড়যন্ত্র করেছে।” তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলার মায়েদের প্রতিনিধি দাবি করা দলটিও দিল্লির দরবারে মহিলাদের অধিকারের পথে কাঁটা বিছিয়েছে। কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি জানান, বিলটি যখন লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল, তখন কংগ্রেস সাংসদদের হাততালি দেওয়াটা ছিল দেশের নারীশক্তির প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা। বিরোধীদের এই উল্লাসকে ‘পৈশাচিক’ বলে বর্ণনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি মোদী সরকারের ঘাড়েই ঠেলে দিয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের পাল্টাচাল, সরকার আসলে সংরক্ষণ দিতে চায়নি, বরং ডিলিমিটেশনের ছুতোয় দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে নিজেদের সুবিধা খুঁজছিল। বিরোধীদের দাবি, সরকার যদি আন্তরিক হতো, তবে ২০২৩ সালে পাস হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ অনুযায়ী বর্তমান আসনেই সংরক্ষণ কার্যকর করতে পারত। ডিএমকে-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শীঘ্রই রাজ্যসভায় একটি ব্যক্তিগত সদস্য বিল আনবে যেখানে বর্তমান কাঠামোতেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬-এর বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মোদী সরাসরি ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’-এর আবেগকে স্পর্শ করতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “লড়াই এখনই শেষ হয়নি। মহিলাদের হাতে ক্ষমতা তুলে না দেওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে।” আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধীদের প্রচারকে ‘ভ্রান্ত’ বলে উড়িয়ে দিয়ে মোদী বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই দিনটি ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে, নারী সংরক্ষণ নিয়ে সংসদের যুদ্ধ এবার রাজপথের লড়াইয়ে পরিণত হতে চলেছে, যার আঁচ আগামী দিনের নির্বাচনে টের পাওয়া যাবে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper