AB Live News
ধর্ম বদল ও কটাক্ষ: নীরবতা ভেঙে নিন্দুকদের কড়া জবাব চাহত খন্নার
রূপসা দাস: ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে এবং ধর্ম পরিবর্তন— এই তিন ইস্যুতে গত কয়েক বছর ধরে বিনোদন জগতের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী চাহত খন্না। ফরহান মির্জার সঙ্গে বিয়ের সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বিচ্ছেদের পর পুনরায় নিজ ধর্মে ফিরে আসা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বারেবারে তীক্ষ্ণ কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। এতদিন বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলেও সম্প্রতি এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী। সাফ জানালেন, ধর্ম পরিবর্তন ছিল তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এ নিয়ে তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই।
চাহতের কথায়, তিনি আগাগোড়াই এক ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশে বড় হয়েছেন এবং তাঁর বিশ্বাস কোনও একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “আমি যেমন ইদ পালন করি, তেমনই সমান উৎসাহে দীপাবলিও উদ্যাপন করি। বিয়ের আগে বা পরে, আমার এই সত্তা কখনও বদলায়নি।” অনেকেই দাবি করেছিলেন যে, ফরহানের সঙ্গে বিয়ের সময় তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছিল। এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে চাহত বলেন, “আমি নিজের ইচ্ছায় ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কেউ আমাকে বাধ্য করেনি। আমি ইসলাম ও সনাতন— উভয় ধর্মেই সমানভাবে বিশ্বাসী।”
ফরহানের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। একদিকে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, অন্যদিকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ক্রমাগত ট্রোলিং— সব মিলিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে চাহত বলেন, “আমার খুব ভয় লাগত। মনে হতো চারদিকে শুধু নেতিবাচকতা। অনেকেই বলেছিলেন আমার নাম খারাপ হয়ে গেছে, আমি আর কাজ পাব না। কিন্তু আমি বুঝেছি, মানুষের কথায় কান দিয়ে নিজের জীবন থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”
বর্তমানে চাহত তাঁর হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। সমাজিক মাধ্যমে তাঁর ধর্ম নিয়ে চলা বিতর্ককে তিনি এখন আর গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর মতে, যারা শুধু সমালোচনার জন্য ওত পেতে থাকে, তারা কখনও প্রকৃত সত্য বুঝতে চায় না। নিজের বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থেকে চাহত এখন পেশাদার জীবনে মন দিতে চান। ধর্মের চেয়েও মানবিকতা এবং ব্যক্তিগত শান্তিই তাঁর কাছে এখন বড় কথা। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তাঁর এই সোজাসাপ্টা বার্তা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

