Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ইসলামাবাদের টেবিলে ট্রাম্প-ইরান: সোমবার কি মিলবে স্থায়ী শান্তির পথ?

0 8,754,987,408

 পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসার পর এবার আলোচনার টেবিলে সমাধানের সূত্র খুঁজছে বিবদমান দুই পক্ষ। আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে মুখোমুখি হতে পারেন আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা। প্রথম দফার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর দাবি, সপ্তাহান্তেই দু’দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে পা রাখবেন। তবে এই বৈঠককে ঘিরে যেমন আশার আলো দেখা যাচ্ছে, তেমনই তেহরানের অনমনীয় মনোভাব ও ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান দোলাচল জিইয়ে রেখেছে।

ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের পাশাপাশি এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে কাতার ও তুরস্ক। আল জাজ়িরার রিপোর্ট অনুযায়ী, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল ঠানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এর্ডোগান ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেছেন। দুই রাষ্ট্রপ্রধানই পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানিয়ে জানিয়েছেন, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত বন্ধ হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, গত বুধবার খোদ পাক সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন। মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ প্রস্তাব নিয়েই তিনি তেহরান গিয়েছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সময়ের অপেক্ষা। তাঁর ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু ওয়াশিংটনের এই অতি-আশাবাদী বয়ানকে ‘ভুয়ো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। শনিবার সকালেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ট্রাম্প একের পর এক মিথ্যে দাবি করছেন। আমেরিকা যদি হরমুজ় প্রণালীর মুখে থাকা নৌ-অবরোধ না তোলে, তবে ইরান ফের ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। কালিবাফের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, আলোচনার টেবিল যথেষ্ট উত্তপ্ত হতে চলেছে।

শুক্রবার ইরান সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানালেও বাস্তবের চিত্রটা এখনও বেশ জটিল। লেবানন ও ইজ়রায়েলের ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতি চলাকালীন এই জলপথ খোলা থাকবে বলে ইরান জানালেও, বহু জাহাজ ভয়ে হরমুজ়ের মুখ থেকে ফিরে যাচ্ছে। মার্কিন নৌসেনার কড়া নজরদারি ও বিমা সংক্রান্ত জটিলতায় এখনও সমুদ্রপথে স্বাভাবিক হয়নি তেল সরবরাহ।

ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, “আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং হরমুজ় প্রণালীর অধিকার নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। আমেরিকার অবরোধ না উঠলে শান্তির আলাপ অর্থহীন।”

সোমবারের বৈঠকে যদি বড় কোনও ব্রেক-থ্রু না আসে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ফলে গোটা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের সেই রুদ্ধদ্বার কামরার দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে আগামীর যুদ্ধ না কি শান্তি।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper