AB Live News
ওয়াংখেড়েতে পাঞ্জাব-ঝড়, আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে
ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও অভিশপ্ত হারের বৃত্ত থেকে বেরোতে পারল না মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কুইন্টন ডি’ককের মরসুমের সেরা ইনিংসটিও মুম্বইয়ের পতন আটকাতে পারল না। বৃহস্পতিবার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের কাছে ৭ উইকেটে চূর্ণ হলেন হার্দিক পাণ্ড্যরা। এই হারের ফলে চলতি আইপিএলে টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের গ্লানি সঙ্গী হলো মুম্বইয়ের। অন্যদিকে, শ্রেয়স আয়ারের পাঞ্জাব কিংস পাঁচ ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের মগডালে নিজেদের স্থান আরও মজবুত করল। তারা এই মরসুমে এখন পর্যন্ত অপরাজিত একমাত্র দল।
এদিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বইয়ের ইনিংসের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। অর্শদীপ সিংহের আগুনে বোলিংয়ে শুরুতেই থমকে যায় ওয়াংখেড়ের গ্যালারি। নিজের দ্বিতীয় ওভারের টানা দুই বলে তিনি সাজঘরে ফেরান রায়ান রিকেলটন ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পোস্টার বয় সূর্যকুমার যাদবকে। সূর্য আরও একবার শূন্য রানে ফেরায় তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়ে খেলা ধরেন কুইন্টন ডি’কক এবং তরুণ নমন ধীর। দুজনে মিলে পাঞ্জাবের বোলারদের ওপর পাল্টা শাসন শুরু করেন। যুজবেন্দ্র চহল ও জেভিয়ার বার্টলেটদের দিশেহারা করে ৬৮ বলে ১২২ রানের মহাকাব্যিক জুটি গড়েন তাঁরা। ৩১ বলে ঝোড়ো ৫০ রান করে নমন আউট হলেও ডি’কক ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। পাঞ্জাবের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে একাই লড়াই চালিয়ে আইপিএল কেরিয়ারের তৃতীয় শতরানটি তুলে নেন এই প্রোটিয়া তারকা। শেষ পর্যন্ত ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, যার সৌজন্যে মুম্বই স্কোরবোর্ডে ১৯৫ রান তোলে। পাঞ্জাবের পক্ষে অর্শদীপ সিংহ ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট দখল করেন এবং একইসাথে আইপিএলে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৯৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব বুঝিয়ে দেয় কেন তারা এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার। মুম্বইয়ের অভিজ্ঞ পেসার দীপক চাহারের প্রথম ওভারেই ২১ রান তুলে পাঞ্জাব শুরুতেই ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলেছিল। ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য (১৫) এবং কুপার কোনোলি (১৭) দ্রুত ফিরলেও মুম্বইয়ের বোলাররা রানের গতিতে লাগাম পরাতে পারেননি। এরপরেই শুরু হয় প্রভসিমরন সিংহ ও অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের ব্যাটিং তাণ্ডব। শার্দূল ঠাকুর থেকে শুরু করে অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য— কাউকেই রেয়াত করেননি প্রভসিমরন। মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে মাত্র ৩৯ বলে ৮০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। অন্য প্রান্তে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে ৩৫ বলে ৬৬ রান করেন শ্রেয়স আয়ার।
মুম্বইয়ের বোলিং বিভাগ এদিনও ছিল ছন্নছাড়া। বিশেষ করে দলের প্রধান অস্ত্র জসপ্রীত বুমরাহর অফ-ফর্ম টিম ম্যানেজমেন্টকে গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে বুমরাহ এদিনও উইকেটশূন্য ছিলেন। চলতি মরসুমে পাঁচ ম্যাচ পার হয়ে গেলেও তাঁর উইকেটের খাতা না খোলা রীতিমতো রহস্যজনক। শেষ পর্যন্ত ২১ বল বাকি থাকতেই জয়ের প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। মুম্বইয়ের এই টানা ব্যর্থতা দলের অন্দরের পরিবেশ এবং হার্দিক পাণ্ড্যর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। পাঁচ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ৯ নম্বরে থাকা মুম্বইয়ের জন্য প্লে-অফের স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

