AB Live News
নিশ্চিন্তে ভাঙড়, দাবি নওশাদের
ভোট আসে, ভোট যায়— কিন্তু ভাঙড়ের আকাশে বারুদের গন্ধ মেটে না। বিধানসভা হোক বা পঞ্চায়েত, গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগণার এই জনপদ কার্যত হিংসার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এবারের চিত্রনাট্য কি বদলে গিয়েছে? মঙ্গলবার পাণ্ডবেশ্বরের এক জনসভা থেকে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী তেমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন। তাঁর মতে, গোটা রাজ্য যখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা ‘এসআইআর’ (SIR) ইস্যুতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তখন ‘ভয়ের ভাঙড়’ আসলে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে।
এদিন পাণ্ডবেশ্বরের সিপিএম প্রার্থী প্রবীর মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত একটি সভায় যোগ দেন আইএসএফ নেতা নওশাদ। সেখান থেকেই তিনি ভাঙড়ের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “এসআইআর নিয়ে অন্যান্য বিধানসভার মানুষ যখন চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন, তখন ভাঙড়ের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন। কারণ তাঁরা জানেন, তাঁরা নওশাদ সিদ্দিকীকে জিতিয়েছিলেন এবং তাঁদের বিপদে আমি সবসময় পাশে আছি।”
নওশাদ আরও দাবি করেন, এলাকার সাধারণ মানুষের ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে যাবতীয় আইনি জটিলতায় তিনি নিজে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, যেখানে ভাঙড় বিধানসভার ২৯,৮০৭ জন ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ২,১৮৩ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে, সেখানে বিধায়ক কোন যুক্তিতে ‘নিশ্চিন্তে ঘুমের’ কথা বলছেন?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা বর্তমানে নাগরিকত্ব প্রমাণে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নওশাদ জানান, ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী দিয়ে ওই ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনার আইনি লড়াই তিনি লড়ছেন। মূলত এই সুরক্ষাকবচের আশ্বাস দিয়েই তিনি পাণ্ডবেশ্বরের মানুষকে বার্তা দেন, “আপনারা যদি এমন কাউকে চান যে বিপদে পাশে দাঁড়াবে, তবে প্রবীর মণ্ডলকে ভোট দিন।”
পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন থেকে গণনা পর্যন্ত যে ভাঙড়ে গুলি-বোমার লড়াই দেখেছিল রাজ্যবাসী, অশান্তি রুখতে যাকে আনা হয়েছে কলকাতা পুলিশের আওতায়, সেই জনপদকে নিয়ে নওশাদের এই ‘শান্তির সার্টিফিকেট’ আসন্ন নির্বাচনে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

