AB Live News
সুরের আকাশে চিরস্থায়ী নীরবতা: সুরলোকে পাড়ি দিলেন কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে
রূপসা দাস, (মুম্বাই): একটি যুগের অবসান। স্তব্ধ হয়ে গেল সেই চিরযৌবনা কণ্ঠস্বর, যা গত আট দশক ধরে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্পন্দন জাগিয়েছিল। রবিবার দুপুরে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় সংগীতের সেই প্রবাদপ্রতিম ‘স্বর্ণযুগের’ শেষ প্রদীপটিও নিভে গেল।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে খবর
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল রাতভর চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রবিবার দুপুরে তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে প্রিয় ‘আশাকতাই’-এর প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করেন। মায়ের শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশেই ছিলেন।
আট দশকের জাদুকরী সফর
১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম। দিদি লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় পথ চলা শুরু করলেও, অতি দ্রুত নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছিলেন আশা। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে পপ, ক্যাবারে, গজল বা ভজন—সবক্ষেত্রেই তাঁর কণ্ঠ ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছিলেন তিনি। পদ্মবিভূষণ থেকে শুরু করে দাদাসাহেব ফালকে—দেশের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোয় ভূষিত হয়েছেন এই সুরসম্রাজ্ঞী।
“তাঁর চলে যাওয়া সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রাণশক্তির এক মূর্ত প্রতীক।”
— প্রধাণমন্ত্রীর শোকবার্তা
কাল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য
মুম্বই প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামীকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) শিবাজি পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ক্রীড়া ও বিনোদন দুনিয়া। কিংবদন্তির প্রয়াণে মহারাষ্ট্র সরকার আগামীকাল রাজ্যে শোক পালনের ঘোষণা করেছে।
এক নজরে বর্ণময় জীবন:
জন্ম: ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩।
প্রথম গান: ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি ‘মাঝা বাল’-এ।
স্বীকৃতি: ২ বার জাতীয় পুরস্কার ও ৭ বার ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ গায়িকার সম্মান।
বিশেষ সম্মান: ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকাতুর কলকাতা ও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গও। তাঁর গাওয়া অজস্র বাংলা গান—’একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ থেকে ‘চোখে চোখে কথা বলো’—বাঙালির আবেগের সঙ্গে মিশে থাকবে চিরকাল। তাঁর প্রয়াণে সুরের ভুবনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা বোধহয় কোনোদিনই পূরণ হওয়ার নয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

