AB Live News
জলে নেমে অঙ্গীকার: পটাশপুরে কেলেঘাই অস্ত্রেই বাজিমাত করতে চায় বিজেপি
ভোটের আবহে উত্তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুর। আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অপর নাম ‘কেলেঘাই’ নদী। পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন সেনাকর্মী তপন মাইতি প্রচারে নামতেই এক অভিনব রণকৌশল বেছে নিলেন। কেবল জনসভা বা পদযাত্রা নয়, খোদ নদীর বুকেই চলল ভোট প্রচার আর সংস্কারের অঙ্গীকার।
শনিবার পটাশপুরের সিঙলাই মোড়ের কাছে কেলেঘাই নদীর পাড়ে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এক হাতে দলীয় পতাকা, অন্য হাতে জলের ঢেউ সামলে নদীতে সাঁতার কাটলেন দুই বিজেপি নেতা— জেলা কমিটির সদস্য সুকান্ত প্রধান এবং মোহনলাল শী। নদীর মাঝপথে দলীয় পতাকা উঁচিয়ে তাঁরা শপথ নিলেন, জয়ী হলে নদী সংস্কারই হবে তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। ডাঙায় তখন শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। মহিলারা প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করলেন। আর সেই আরতির শিখায় নদী সংস্কারের সংকল্প নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতি। পটাশপুর এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা এই কেলেঘাই নদী। প্রতি বছর বর্ষায় নদী ভাঙন আর বন্যায় বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়। নিঃস্ব হন কৃষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিন প্রচারের ফাঁকে বাসিন্দাদের সেই ক্ষোভের মুখে পড়েন প্রার্থী। গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানান, তাঁরা আর ফাঁকা আশ্বাস চান না, চান স্থায়ী সমাধান।
পাল্টা সুর চড়িয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন তপন মাইতি। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু কেলেঘাইয়ের কান্না থামেনি। প্রতি বছর গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যাচ্ছে, অথচ শাসকদলের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। পটাশপুরের গণদেবতা যদি আমায় আশীর্বাদ করেন, তবে বিধানসভায় আমার প্রথম দাবি হবে এই নদী সংস্কার। প্রয়োজনে আমি আমৃত্যু আন্দোলন চালিয়ে যাব।” অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী হিসেবে তপন মাইতির এই ‘অ্যাকশনধর্মী’ প্রচার পটাশপুরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের নজর কাড়তে জলে নেমে এই সাঁতার আর আরতি শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতখানি ঝড় তোলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা। নদীপাড়ের মানুষ অবশ্য বলছেন, “চমক তো অনেক দেখলাম, এবার নদীটা সংস্কার হলেই বাঁচি।”
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

