AB Live News
ভোট-যুদ্ধে মুখোমুখি মা ও ছেলে! লড়ার আগে আশীর্বাদ চাইলেন তৃণমূল প্রার্থী
রাজনীতির লড়াই নিজের জায়গায়, কিন্তু মাতৃত্বের স্থান সবার উপরে। উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে এবার এক অদ্ভুত সমীকরণের সাক্ষী থাকছেন ভোটাররা। এখানে একদিকের শিবিরে লড়াই করছেন ‘মা’, যিনি গেরুয়া শিবিরের কট্টর সমর্থক ও কর্মী। আর উল্টোদিকে জোড়াফুল শিবিরের ব্যাটন হাতে সেনাপতি হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই ‘পুত্র’। তবে ভোটের ময়দানে একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ হলেও, লড়াইয়ে নামার ঠিক আগে প্রতিপক্ষ মায়ের পা ছুঁয়েই জয়ের আশীর্বাদ নিতে চান তৃণমূল প্রার্থী।
‘মা-মাটি-মানুষ’-এর জয়ে মায়েরই ভরসা
বৃহস্পতিবার সকালে গলায় মালা পরে নির্বাচনী প্রচারে বেরোনোর সময় আত্মবিশ্বাসী মেজাজে দেখা গেল তৃণমূল প্রার্থীকে। জয়ের আগেই আঙুলে ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বার্তা দেন, এবার এই কেন্দ্র পুনরুদ্ধার করা তাঁর কাছে কেবল রাজনৈতিক কর্তব্য নয়, বরং সম্মানের লড়াই। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে আমরা বিপরীত মেরুর হতে পারি, কিন্তু মা তো মা-ই। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় জননীর পা ছুঁয়েই আশীর্বাদ নেব। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির মানুষের সেবায় আমি মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই জয়ী হব।”
মতাদর্শের দ্বন্দ্বে উত্তাল ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মা বনাম তৃণমূলী পুত্রের এই লড়াই এখন স্থানীয় চায়ের দোকানের প্রধান চর্চার বিষয়। মা যেখানে বিজেপির ‘পদ্ম’ ফোটাতে বদ্ধপরিকর, ছেলে সেখানে ‘মা-মাটি-মানুষের’ সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া। বাড়ির অন্দরে ডাইনিং টেবিলে রাজনীতির আলোচনা ব্রাত্য থাকলেও, বাইরে দুজনেই নিজের দলের আদর্শ প্রচারে কোনো খামতি রাখছেন না।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছিল। তাই এবার হারানো গড় ফিরে পেতে পারিবারিক সেন্টিমেন্ট এবং উন্নয়নের কার্ড—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে শাসক দল। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরও এই ‘গৃহযুদ্ধ’কে খুব একটা হালকাভাবে নিচ্ছে না।
শেষে কে হাসবেন জয়ের হাসি? জননী নাকি পুত্র? তার উত্তর দেবে ইভিএম। তবে রাজনীতির এই কঠোর ময়দানেও মা-ছেলের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা সাধারণ মানুষের মনে এক অনন্য সংবেদনশীল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

