AB Live News
শশীর পর টার্গেট মমতা? দিলীপের হুমকিতে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ বঙ্গ সফর, আর অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদলের হেভিওয়েট মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে আগুনের ঘি ঢাললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে নিউটাউনের ইকো পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর গড় কালীঘাটকে নিশানা করে কার্যত যুদ্ধের ডাক দিলেন তিনি। দিলীপের সাফ হুঁশিয়ারি, “কালীঘাটেও হামলা হতে পারে, মদন মিত্র বা ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতেও হামলা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “শশী পাঁজা নাটক করছেন। আমাদের কর্মীরা তৈরি, এবার সাবধান না হলে শুধু মাথায় নয়, আরও অনেক জায়গায় ব্যান্ডেজ বাঁধতে হবে।” এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি শশী পাঁজার পর বিজেপির পরবর্তী টার্গেট স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী?
বিতর্কের সূত্রপাত ব্রিগেডের মঞ্চে বিজেপির তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তীর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আইসিইউ’-তে ঢোকানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন। সেই সুর টেনেই দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “তৃণমূলকে মারতে বাইরের লোক লাগে না, আমরাই যথেষ্ট। সারা বাংলায় মারব।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারি বা জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার সময় তৃণমূল যা করেছে, এবার তার কড়ায়-গন্ডায় হিসাব নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবকা হিসাব’ স্লোগানকে হাতিয়ার করে তিনি জানান, হিসাব মানে শুধু টাকার নয়, গুন্ডামিরও হিসাব হবে। দিলীপের এই ‘বোম-বন্দুক’ আনার হুমকি এবং “বেশি বাড়াবাড়ি করলে তৃণমূলকেই নামিয়ে দেব” শীর্ষক মন্তব্য ঘিরে সরগরম নবান্ন থেকে মুরলীধর সেন লেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বারবার সামনে এসেছে। ২০২৬-এর নির্বাচন বিজেপির কাছে ‘ডু অর ডাই’ লড়াই হলেও দলের অভ্যন্তরীণ ফাটল মেটানো সম্ভব হয়নি। সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই কি তবে এখন ‘হুমকির রাজনীতি’ বা মেরুকরণের পথ বেছে নিচ্ছে গেরুয়া শিবির? অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পালটা দাবি করেছে, এই ধরণের হিংসাত্মক মন্তব্য প্রমাণ করে যে বিজেপি পায়ের তলায় মাটি হারিয়ে এখন বেসামাল। শাসকদলের দাবি, বাংলার মানুষ এই হুমকির জবাব ব্যালট বক্সেই দেবেন। মোদির সফরের দিনই মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা এবং তারপর শীর্ষ নেতৃত্বের এমন উস্কানিমূলক ভাষণ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এক গভীর সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Sudeshna Biswas, দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Sudeshna Biswas হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

