Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

লড়াইয়ের দিনে শচীনের ফোনে চাঙ্গা হয়েছিলেন কেরল তনয় নায়ক সঞ্জু

0 78,604,373

 

 আড়াই বছর আগে বার্বাডোজের সেই ভিজে ঘাসে এক ফোঁটা সুযোগ পাননি তিনি। সারাটা টুর্নামেন্ট কেটেছিল ডাগ-আউটে জলের বোতল বয়ে। কিন্তু ক্রিকেট ঈশ্বর বোধহয় ২০২৬-এর মোতেরার জন্য এক রূপকথার চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিলেন। ইডেন থেকে ওয়াংখেড়ে হয়ে আমেদাবাদ—সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ছিল চর্তুদিকের আগুনের গোলা। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতের বিশ্বজয়ের দিনে টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের সম্মান হাতে নিয়ে সঞ্জু জানিয়ে দিলেন তাঁর এই পরিবর্তনের রহস্য। নেপথ্যে আর কেউ নন, খোদ মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেন্ডুলকর।
শচীনের ‘গাইডেন্স’ ও আত্মবিশ্বাসের জয়
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগবিহ্বল সঞ্জু বলেন, “গত দু’মাস ধরে আমি শচীন স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছিলাম। অস্ট্রেলিয়া সফরে যখন বাইরে বসে থাকতে হচ্ছিল, খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল, তখন স্যার আমাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করেছেন।” সঞ্জু আরও যোগ করেন, এমনকি ফাইনালের আগেও শচীন তাঁকে ফোন করে অভয় দেন। ম্যাচ নিয়ে সচেতনতা এবং প্রস্তুতির স্বচ্ছতা—এই সবই তিনি কিংবদন্তি তেন্ডুলকরের গাইডেন্সে অর্জন করেছেন। ১৯৮৩-র মোহিন্দর অমরনাথের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে সঞ্জু যেভাবে নক-আউটের তিন ম্যাচে ১৯৯-এর স্ট্রাইক রেটে ২৭৫ রান তুললেন, তা বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল।
বুমরার বিষে নীল নিউজিল্যান্ড
সঞ্জু টুর্নামেন্ট সেরা হলেও, ফাইনালের মেগা লড়াইয়ে নায়ক সেই ‘কোহিনুর’ জসপ্রীত বুমরা। নিজের ঘরের মাঠে স্পেল শেষ করলেন ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে। বিষাক্ত ইয়র্কার আর মাপা লেংথে কিউইদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড কার্যত একাই ভেঙে দেন তিনি। ম্যান অফ দ্য ম্যাচের ট্রফি হাতে বুমরা বলেন, “বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজের ঘরের মাঠে সেরা হওয়ার আনন্দই আলাদা। আমরাই প্রথম দল যারা টানা বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারলাম (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন), এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!”
অপেক্ষার অবসান, স্বপ্নের শুরু
মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সঞ্জুর ঝুলিতে এখন ৩২১ রান। যাঁর নামের পাশে ‘অস্থিরমতি’ তকমা সেঁটে দিয়েছিল সমালোচকরা, সেই সঞ্জু এখন বিশ্বজয়ী হ্যটট্রিকের কান্ডারি। সঞ্জুর কথায়, “আমি স্বপ্নের মধ্যে বাস করছি। ২০২৪-এ এক মিনিটের জন্যও নামার সুযোগ পাইনি, কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছাড়িনি। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম।”
নক-আউটে ‘স্যামসন’ সুনামি:
ইডেন গার্ডেন্স: ৫০ বলে ৯৭* রান (সেমিফাইনাল)
ওয়াংখেড়ে: ৪২ বলে ৮৯ রান (কোয়ার্টার ফাইনাল)
মোতেরা: ৪৬ বলে ৮৯ রান (ফাইনাল)
ভারতের এই অবিস্মরণীয় জয় কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং এক বঞ্চিত ক্রিকেটারের ফিরে আসার লড়াই হিসেবেও ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সোমবার সকালে অফিস-কাছারির ভিড়ে ক্লান্ত আম জনতা আজ ট্রেনের কামরায় বা চায়ের দোকানে কেবল একজনের নামই জপছে—সঞ্জু স্যামসন।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper